বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০১৮ উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০১৮ উপলক্ষে আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর পরই দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। জাতির পিতা তদানীন্তন আইপিজিএমআর-কে চিকিৎসা গবেষণার পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবার সর্বোত্তম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আমরা একটি গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করেছি এবং এ নীতির বাস্তবায়ন করছি। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা, সাধারণ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছে। নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, মেডিকেল এসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুল এবং হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরা ১৯৯৮ সালে দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করি। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশে মেডিকেল উচ্চশিক্ষার বিকাশ, স্বাস্থ্যখাতে গবেষণার প্রসার এবং বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের চিকিৎসা জগতে সেন্টার অভ্ এক্সিলেন্সে পরিণত হয়েছে। আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট ’Extablishment of Multi-disciplinary Super-specialized Hospital’ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছি। রাজশাহী ও চট্টগ্রামে দু’টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার লক্ষ্যে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিলেটে আরো একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমি আশা করি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় যুগোপযোগী চিকিৎসা এবং শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”