মাছের লোভে ধানের সর্বনাশ

নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের নাওটানা খালের মুখের বাঁধ কে বা কারা বৃহস্পতিবার ভোরে কেটে দিয়েছে। এতে প্রবল বেগে হাওরে নামছে সীমান্ত নদী পাটলাইয়ের পানি, যা আঘাত করছে ছয়কুড়ি বিল ও নয়কুড়ি কান্দার ফসলি জমিতে। টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের চার ইউনিয়নের ৮৮টি গ্রামের মানুষ এই কান্দা ও বিলের পাড়ে চাষাবাদ করেন। এ কারণে বাঁধভাঙা এই পানিতে চিন্তিত কৃষকরা। জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা জানান, এখনই পানি প্রবেশ বন্ধ না হলে ৭-৮ হাজার হেক্টর জমি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

টাঙ্গুয়ার হাওর সমাজভিত্তিক টেকসই ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুছ ছত্তার অভিযোগ করেন, ‘পাটলাই নদীর জেলেরাই বেশি মাছ ধরার লোভে এই বাঁধ কাটতে পারে। আগেও অনেকবার এভাবে কেটেছে। পানি প্রবল বেগে নামলে মাছের উজাই ওঠে, একদিনে লক্ষাধিক টাকার মাছ ধরতে পারে। বেশি লোভে এই কাজ করেছে দুর্বৃত্তরা।’ এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার তাহিরপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ ৯০ জন জেলের নামে মামলা করেছেন বাঁধ নির্মাণকারী সংগঠন টাঙ্গুয়ার হাওর টেকসই ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ খসরুল আলম।

নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন- আরিফ মাঝি, আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান, বকুল মিয়া, সুলতান মিয়া, সোহেল মিয়া, রফিকুল ও পাভেল মিয়া। এর মধ্যে আনোয়ার হোসেনকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খসরুল আলম বলেন, মামলায় যে ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের প্রত্যেককেই বাঁধে ভাঙনের পরে সেখানে মাছ ধরতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বাকি অজ্ঞাত ৮২ জনকেও ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে মাছ ধরার জন্য আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হাওরের পাশ দিয়ে বহমান সীমান্ত নদী পাটলাইয়ের পানি বৌলাই হয়ে সুরমা নদীতে নামে। সীমান্তের টেকেরঘাট থেকে নেমে আসা এই নদীপাড়ের গোলাভারি গ্রামের আধকিলোমিটার উজানের অংশ ভেঙে বৃহস্পতিবার বিকেলে থেকে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে হাওরে, যা প্লাবিত করছে ধর্মপাশা উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা এবং তাহিরপুর উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ৮৮ গ্রামের কৃষিজমি। টাঙ্গুয়ার হাওরের এরালিয়াকোনা, গনিয়াকুরি, লামারগুল, টানেরগুল, নান্দিয়া, মাজেরগুল, টুঙ্গামারা, সোনাডুবি, গলগলিয়া, শামসাগর, রাঙামাটিয়াসহ ছয়কুড়ি বিলের পাড়ে এবং কান্দায় রয়েছে এসব জমি।

হাওরপাড়ের জয়পুর গ্রামের কালা মিয়া জানান, ১২ একর জমিতে চাষাবাদ করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে এক একর জমির ফসল কাটা হয়েছে, এখন বাকি জমি ডুবে যায় কি-না তিনি সেই চিন্তায় আছেন। গোলাভারী গ্রামের কৃষক সিরাজ মিয়া বলেন, ‘কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল ডুবে যাওয়ার আগেই বাঁধের ভাঙা অংশ বন্ধ করতে হবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানালেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের ৬০ ভাগ ফসল কাটা হয়ে গেছে। এখন পানি প্রবেশ বন্ধ না করলে টাঙ্গুয়ার হাওরের বাকি ফসল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, ‘পানি প্রবেশ ঠেকানো না গেলে ৮ থেকে ৯ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা দ্রুত ভাঙা অংশ বন্ধের ব্যবস্থা করব।’

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন, আসামি সবাই জেলে। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।