ভোলায় গৃহকর্মীর ওপর এ কেমন নিষ্ঠুরতা

জেলা প্রতিনিধি(ভোলা) : সামান্য অভিযোগে গৃহকর্মী সাথীর ওপর ১১ মাস ধরে চরম নির্যাতন চালিয়েছে এক দম্পতি। এতে ওই শিশু গৃহপরিচারিকার সারা শরীরের খুনতির ছ্যাঁকা, কামড়ের দাগ, মাথা ফাটিয়ে দেয়া, স্পর্শকাতর জায়গায় মরিচ লাগানোসহ লোমহর্ষক নির্যাতনের চিহ্ণ পাওয়া গেছে।

আর এ অবস্থাতেই দোতলা বাড়িতে আটকে রাখা হয় ওই নির্যাতিতা শিশুটিকে। পরে নির্যাতিতা শিশু সুযোগ বুঝে গাছ দিয়ে নেমে আশ্রয় নেয় প্রতিবেশীর বাড়িতে। পরে পুলিশ উদ্ধার করে ওই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আর এমন মধ্যযুগীয় ঘটনাটি ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে ঘটেছে।

নির্যাতিতা সাথী (১২) বড়মানিকা ২নং ওয়ার্ডের রিকশাচালক লাল মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত দম্পতি হলেন ৬নং ওয়ার্ডের রড সিমেন্ট বালু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম (বালু রফিক) ও তার তৃতীয় স্ত্রী পাখি বেগম।

এ ঘটনায় শনিবার বোরহানউদ্দিন থানায় নির্যাতিতা সাথীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বর্তমানে সাথী বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে ঘটনার পরক্ষণেই ভাড়া বাসার ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত রফিক দম্পতি।

শুক্রবার পুলিশ ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগে বুধবার ওই শিশুটিকে নির্যাতন করে মাথা ফাটিয়ে তিন দিন ঘরে আটকে রাখা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাথী জানায়, ১১ মাস ধরে বালু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম (বালু রফিক) ঘরে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। সামান্য অভিযোগেই বালু রফিকের তৃতীয় স্ত্রী পাখি বেগম বিভিন্ন সময় নির্যাতন চালাত। কখনও কখনও গৃহকর্তা রফিকও নির্যাতন চালাত।

শুক্রবার ওই গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের পর বাসায় আটকে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে নির্যাতিতা ওই শিশু গাছ বেয়ে পার্শ্ববর্তী এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে ওই প্রতিবেশীর সহযোগিতায় পুলিশ নির্যাতিতা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে হাসপাতালে শিশুটিকে আনলে সারা শরীরের ক্ষতচিহ্ণ দেখে হতবাক হয়ে পড়ে উপস্থিত লোকজন। কেউ কেউ শিশুটিকে ঘিরে কান্না করছে এমন ভিডিও ফেসবুকে দেন। অল্প সময়েই তা ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

ডা. তৈয়বুর রহমান জানান, শিশু সাথীর সারা শরীরেই নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন থানার ওসি অসীম কুমার সিকদার যুগান্তরকে জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। ঘটনার পরপরই ওই দম্পতি গাঢাকা দিয়েছে।