ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

গৌরীপুর সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সরবরাহকৃত প্রশ্নপত্র ও সময়সূচী অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৬এপ্রিল) অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়িকের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র দিয়ে ওইদিন উপজেলার ১৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গৌরীপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রফিকুল ইসলাম পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টার থেকে সাজেশানের নামে হাতে লেখা এই প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের মাঝে সরবরাহ করা হয়। পরে ওই দিন বিকালে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোচিংয়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সাথে পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত। সে বিভিন্ন মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে সাজেশন দেয়ার নামে তাঁর কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন সরবরাহ করে আসছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনা তদন্ত করার পাশাপশি অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে শোকজ করতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার উপজেলার ১৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওই দিন পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে পৌর শহরের দি আইডিয়াল কিন্ডারগার্ডেনে বাইরে গেটে তালা লাগিয়ে ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বাংলা পরীক্ষা নেয়া হয়। কোচিংয়ে পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মগবুল হোসেন। পরে এই প্রশ্ন কোথা থেকে এসেছে জানতে চাওয়া হলে মগবুল হোসেন সাংবাদিকদের কোনো জবাব দিতে পারেনি।

পরে এই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার উপজেলার ১৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পঞ্চম ও চতুর্থ শ্রেণির বাংলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে দুটো শ্রেণির পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর রফিকুল ইসলামের কোচিংয়ের ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সাথে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সরবরাহ করা প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সঠিক নয়। সাজশনে হিসাবে দেয়া প্রশ্নের সাথে পরীক্ষার প্রশ্নের কিছু মিল থাকতে পারে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. জহির উদ্দিন বলেন, পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কোচিং থেকে উদ্ধারকৃত হাতের লেখা প্রশ্নের সঙ্গে বিকালে অনুষ্ঠিত ৪র্থ শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাঁকে শোকজ করা হবে।

প্রিন্স, ঢাকা