পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

স্টাফ রিপোর্টার:  রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ২৮ এপ্রিল পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০১৮ উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: ‘‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস পালনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।

‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস’ কেবল শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক মুক্তি। শ্রমিকের সুস্থতা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের সঙ্গে উৎপাদনশীলতা নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।

বিশ্ববাণিজ্যের তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিক, মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ, সুস্থতা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পরিপ্রেক্ষিতে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, নিরাপদ জীবন – নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি।

কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা-বিষয়ক প্রাপ্যতা প্রতিটি শ্রমিকের ন্যায়সঙ্গত অধিকার। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার লক্ষ্যে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পর ১৯৭২ সালের ২২ জুন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সদস্যপদ লাভ করে।

স্বাধীনতার পর তিনি সকল কলকারখানা জাতীয়করণ করেন এবং বাংলার শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করেন। বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষের পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নানাবিধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, ব্যবস্থাপনা-কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও উন্নয়ন অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচষ্টায় আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে সক্ষম হবো- এ প্রত্যাশা করি।

আমি ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০১৮’-এর গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’’