জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

স্টাফ রিপোর্টার:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮ এপ্রিল জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০১৮ উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০১৮’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

শিল্পায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে শ্রমিকদের প্রত্যক্ষ ভ‚মিকা রয়েছে। তাই শ্রমিকদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের জীবনমান ও কর্মক্ষেত্রের উন্নয়ন আবশ্যক। এ প্রেক্ষাপটে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, নিরাপদ জীবন-নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন’ অত্যন্ত সময়োগযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। শ্রমিকদের অধিকার এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাধীনতার পর পরই তিনি সকল কলকারখানা জাতীয়করণ করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে, তখনই এদেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। আমরা ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কর্মক্ষেত্রে শোভন, সুষ্ঠু ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি নীতিমালা ২০১৩’ ও ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পেশাগত স¦াস্থ্য ও সেইফটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, গবেষণাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পেশাগত স¦াস্থ্য ও সেইফটি একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শ্রমিকদের চিকিৎসা ও সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আমাদের এসব উদ্যোগের ফলে কর্মপরিবেশসহ শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি ঘটেছে।

বৈশ্বিক, নৈতিক ও আইনি প্রয়োজনীয়তার আলোকে নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করে শ্রমিকদের সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে আমি শিল্পকারখানার মালিক, বিনিয়োগকারী, ব্যবস্থাপক ও উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানাই।

আমি আশা করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত-সমৃদ্ধ জাতির পিতার স¦প্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

আমি ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০১৮’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”