রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মানবতাবিরোধী অপরাধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে বিচারের মুখোমুখি করাতেই এই তদন্ত চলছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নেতৃত্বে এই তদন্ত চলছে। এর আওতায় বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া সহস্রাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া চলছে।মার্চ ও এপ্রিলে আন্তর্জাতিক আইন ও ফৌজদারি বিচারের জ্ঞান রয়েছে এমন ২০ জন তদন্তকারী সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এদের মধ্যে রুয়ান্ডা ও প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিও রয়েছেন। ২০০৪ সালে সুদানের দারফুরে গণহত্যার অভিযোগ তদন্তে মার্কিন ফরেনসিক বিভাগ যে আদলে তদন্ত করেছিল সেই মডেলেই এই তদন্ত কাজ করা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের সংগৃহীত তথ্যগুলো ওয়াশিংটনে বিশ্লেষণ করা হবে এবং প্রতিবেদন আকারে আগামী মে অথবা জুন মাসের প্রথম দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করবে কিনা কিংবা মিয়ানমার সরকারের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ অথবা আন্তর্জাতিক বিচারের সুপারিশ করতে ব্যবহৃত হবে কিনা তা পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি।

তদন্তকারীদের ব্যবহৃত নথিতে বলা হয়েছে, ‘এই তদন্তের উদ্দেশ্য হচ্ছে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সমর্থন চেষ্টা এবং সামাজিক ভিত্তিক সংশোধন চেষ্টাসহ বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া যা তদন্ত, সত্য অন্বেষণ চেষ্টা অথবা বিচার ও দায় আরোপের অন্যান্য চেষ্টা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘প্রকল্পের বিস্তারিত সঠিক।’

তিনি জানান, মার্কিন সরকার সমস্ত প্রাপ্ত তথ্য ও ব্যাপক উপকরণ ব্যবহার করেছে। তবে ‘আমরা সুচিন্তিত, নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে অগ্রসর হতে পারি না।’