ছেলে-মায়ের পর চলে গেলেন বাবাও

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসার নিচে গ্যাস লাইনের বিস্ফোরণে দগ্ধ তামিম ও তার মা মিনার মৃত্যুর পর তামিমের বাবা মানিকও মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মানিক মিয়া (৩৫)।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. বাচ্চু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার রাতে দগ্ধ তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ওইদিনই সাত মাসের শিশু সন্তান তামিমকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে মারা যান মীনা খাতুন।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে পল্লবী থানার মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের ৩ নম্বর রোডের একটি পাঁচতলা বাড়ির নিচতলায় গ্যাস লাইনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধ হন বাড়ির কেয়ারটেকার মানিক মিয়া, তার স্ত্রী মিনা আক্তার ও তাদের শিশু সন্তান তামিম।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বলেন, তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা ওই তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

স্থানীয়রা জানান, চারতলা ভবনের নিচতলার একটি ঘরে থাকতেন কেয়ারটেকার মানিক। তার সঙ্গেই থাকতেন স্ত্রী মীনা খাতুন (২৮) ও সাত মাসের সন্তান তামিম। তাদের ঘরের ভেতর ছিল পানির রিজার্ভ ট্যাঙ্কের মুখ। মানিক রিজার্ভারের ঢাকনা খুলে পানির স্তর দেখার চেষ্টা করছিলেন। তখনই ঘটে বিস্ফোরণ। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। শিশুসহ পরিবারটির তিন সদস্যই গুরুতর দগ্ধ হন।

এদিকে ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্যাসের সংযোগ লাইনে ছিদ্র থাকার কারণে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির জরুরি বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক আরমানুর রেজা ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসলাইনে ছিদ্র হওয়ার প্রমাণ মেলেনি। তিতাসের মূল সরবরাহ পাইপ থেকে বাসার পাইপের সংযোগস্থল ও চুলা অক্ষত ছিল। ফলে গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটেনি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।