৩২ ধারাসহ কয়েকটি ধারায় সংশোধন চেয়েছে বিএফইউজে

নিউজ ডেস্ক : প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারাসহ কয়েকটি ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)। সেসব ধারা নিয়ে বিএফইউজে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তা সংশোধনে ১০টি পর্যবেক্ষণ ও একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএফইউজের পক্ষ থেকে সংগঠনটির চারজন নেতা এসব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বৈঠক শেষে বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা প্রস্তাবিত আইনটির বিভিন্ন ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি সেগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনটি সংসদে পাস করার পর তা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা চেয়েছেন।

বুলবুল জানান, বিএফইউজের প্রস্তাব হলো-আইনটি গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োগ করতে হলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগটি প্রেস কাউন্সিলে যাবে। প্রেস কাউন্সিলে ছোট কমিটি বা সেলের মাধ্যমে এটা প্রাথমিকভাবে যাচাই করে দেখা হবে। ওই সেল বা কমিটির অনুমোদন ছাড়া সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগ করা যাবে না।

মন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে বিইফইউজে যেসব ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—গুপ্তচর বৃত্তি বিষয়ক ৩২ ধারা, আইন শৃঙ্খলার অবনতি সংক্রান্ত ৩১ ধারা, মানহানি বিষয়ক ২৯ ধারা, ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত সংক্রান্ত ২৮ ধারা, আক্রমণাত্মক তথ্য উপাত্ত সংক্রান্ত ২৫ ধারা, মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রচারণা সংক্রান্ত ২১ ধারা ইত্যাদি।

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সম্পাদক পরিষদের মতো বিএফইউজের দাবিগুলোও যৌক্তিক বলে তিনি মনে করেন। প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ এর খসড়া সংসদীয় কমিটিতে আছে। তাই সেখানে আলোচনা হলে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।
তিনি জানান, গতকাল রোববার সিদ্ধান্ত হয়েছে, মে মাসের শেষের দিকে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি, সম্পাদক পরিষদ, বিএফইউজে এবং টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাডকোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানে বাক স্বাধীনতার বিষয়ে যে কথা বলা হয়েছে, এই আইনের মাধ্যমে সে বিষয়ে সন্দেহ থাকলে সেটা দূর করার জন্য যে প্রচেষ্টা নেওয়া দরকার সেটা তাঁরা নেবেন’।

বৈঠকে বিএফইউজের পক্ষে ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব ওমর ফারুক, কোষাধ্যক্ষ মধুসূদন মণ্ডল ও কার্যকরী সদস্য সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।