সরকারি কর্মকর্তাদের টকশোতে অংশগ্রহণে বিধি নিষেধ!

নিউজ ডেস্ক: সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য টেলিভিশন কিংবা বেতারে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারি আচরণবিধি মেনে চলতে হয়। এমনকি, সংবাদপত্রে নিজের নামে কিংবা ছদ্মনামে লেখার ক্ষেত্রেও আগে থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হয়। এটি সরকারি আচরণবিধির একেবারে লিখিত নিয়ম। কিন্তু বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশনে অনেকে আগে থেকে অনুমতি ছাড়াই রীতিমত অংশগ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, সরকারের নীতি নির্ধারকরা বেশ কিছুটা বিব্রত বোধ করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর বেশ কিছুটা চাপও রয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীার কার্যালয়ে ‘ইনোভিশন থিম’ শীর্ষক এক সভা হয়। সেই সভায় গভর্নেন্স ইনোভিশনের পরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তী একাডেমিক বা গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ নিবন্ধ বা পুস্তকাদি প্রকাশের ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন থেকে অব্যাহতি প্রদানের ব্যাপারে প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি বিধিমালা প্রসঙ্গটি আসে বলে জানা গেছে।

সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ এর ২২ বিধি অনুসারে কোনো সরকারি কর্মচারী দফতর প্রধানের অনুমতি ছাড়া কিংবা কর্তব্য সম্পাদনের প্রকৃত প্রয়োজন ছাড়া বেতার বা টেলিভিশনে সম্প্রচারে অংশগ্রহণ কিংবা সংবাদপত্রে বা সাময়িকীতে স্বনামে, ছদ্মনামে, এমনকি অন্য ব্যক্তির নামে কোনো নিবন্ধ লিখতে পারবেন না। কিন্তু এখানে একাডেমিক বা গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ কিংবা নিবন্ধ ও পুস্তক প্রকাশের কথা বলা নেই। সভায় এ বিষয়ে অনেকে বলেছেন, প্রায়ই সরকারি কর্মচারী বা কর্মকর্তার জন্য একাডেমিক প্রয়োজনে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ নিবন্ধ প্রকাশের প্রয়োজন হয়। আর এই কাজগুলো আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব পাণ্ডুলিপি পাঠ করে অনুমোদন দেয়া প্রায় সময় কষ্টসাধ্য। তবে সভায় অনেকে মনে করেন, একাডেমিক কিংবা গবেষণা প্রবন্ধ নিবন্ধের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত দেয়া প্রয়োজন। আর তা হচ্ছে লেখাগুলো যেন কোনো ধরনের মুক্তিযুদ্ধ বা সংবিধান অবমাননাকর না হয়। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন যেন কোনোভাবে লঙ্ঘন না হয়।

এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। তিনি আরো জানান, অনেক আগে থেকে টেলিভিশনে টকশোতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে একটি গাইডলাইন দেয়া রয়েছে। নতুন করে আবার কোনো বিধি নিষেধ দেয়া হয়নি। তবে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তা করাই উত্তম। এমনকি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গেও তিনি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। তবে অন্য একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র আভাস দিয়েছে, সরকারের ইচ্ছেমাফিক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের জন্য লাগাম টেনে ধরা হতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি টেলিভিশনের ক্ষেত্রে মনিটরিং করা হতে পারে।