বেপরোয়া যন্ত্রদানব

মোঃ তাজুল ইসলাম তাজেল। স্বাধীনতার বছরেই জন্ম। জীবনের শুরুতেই বিপর্যয় বাবাকে হারিয়ে দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বপ্ন দেখেছিলেন ইন্টার ড্রিষ্টিক ট্রাক ড্রাইভার হবো। জীবন যুদ্ধে নেমেই কখনো বাসের হেল্পার, কখনো লেগুনার হেলপার, কখনো ট্রাকের হেলপার অদম্য ইচ্ছায় একদিন ধরেছি ট্রাকের স্টিয়ারিং। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া রুপশা থেকে পাথুরিয়া দেশের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। সড়ক মহাসড়ক চোষে বেড়িয়েই দেশের অর্থনৈতিক চাকা স্বচল রেখেছি আমরা পরিবহন শ্রমিকরা।

পরিবহন শ্রমিকরা ঘাতক নয়, সেবক। পরিবহন শ্রমিকরা দানব নয় মানব। বিমান, ট্রেন, বাস, ট্রাক অদক্ষতা, অসচেতনতা অসাবধানতার জন্য হচ্ছে দুর্ঘটনা, ০২ এর জায়গায় ২০ হওয়ায় হলো বিমান দুর্ঘটনা, ট্রেনের সিগন্যাল না মানায় হল ট্রেন দুর্ঘটনা। ট্রাফিক সিগন্যাল না মানায় হল সড়ক দুর্ঘটনা। এ সকল দুর্ঘটনার মূল করণ অসাবধানতা, অসতর্কতা ও অদক্ষতা।

বেপরোয়া ড্রাইভার মানব।
বেপরোয়া যাত্রী মানব।
বেপরোয়া কর্তৃপক্ষ।
বেপরোয়া সড়ক।

বেপরোয়া কোথা থেকে আসল?
বেপরোয়া আসল অসচেতনতা, অসাবধানতা, অদক্ষতা থেকে। সংবাদ মাধ্যমগুলো দুর্ঘটনা যেভাবে সস্তা সংবাদের পথ্য যুগিয়ে যাচ্ছে। সড়ক মহাসড়কগুলোতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা। কর্তৃপক্ষরা কঠোর ভাবে এই ব্যাপারে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে না। অনাকাক্সিক্ষত এ অঘটন রোধে কর্তৃপক্ষকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। খুজে বের করতে হবে দুর্ঘটনার আসল কারণ এর জন্য শুধু চালক নয় আরও অন্য কারণ থাকতে পারে। চালকের ওপর একতরফা দোষ চাপিয়ে বাকি ত্রæটিগুলো মাটি চাপা দিলে সেটা হবে অপ্রতিরোধ্য অঘটনের আরেকটু সুযোগ তৈরি করে দেয়া তাই সব ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ৭টি সাধারন কারণ শনাক্ত করেছে জাতীয় কমিটি। সেগুলো হলো বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালানো, অদক্ষ ও লাইসেন্স বিহীন চালক নিয়োগ, নিয়ম ভঙ্গ করে ওভার লোডিং ও ওভার টেকিং করার প্রবণতা, চালকদের দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ী চালানো, ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরন না করা। ত্রæটিপূর্ণ গাড়ী চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ঘাটতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও চলাচলের অনুপযোগী সড়ক। কিন্তু যাত্রী, পথচারী ও সড়ক কর্তৃপক্ষের কোন কারণ সনাক্ত করেনি। এই ৭টি কারণ যদি ড্রাইভার, যাত্রী, কর্তৃপক্ষ সকলেই মেনে চলি তাহলে আর কোন দুর্ঘটনা হয় না। ট্রাফিক বিভাগকে তাদের স্বস্ব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। সামান্য অর্থের বিনিময়ে অপরাধীকে ছেড়ে দিলে হবেনা। গাড়ীর সকল কাগজ ড্রাইভার চেক করে বের হতে হবে অন্যথায় কাগজ ঠিক না থাকলে ট্রাফিক বিভাগ তার যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চালালে গাড়ী সাবধানে, ভয় থাকে না কারো প্রাণে। যদি সঠিকভাবে গাড়ী চালায় তাহলে আর কোন দুর্ঘটনার ভয় থাকে না। সারা জীবন কান্না করতে হয় না।

বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা আছে। যেমনঃ যাত্রী কল্যাণ সমিতি, নিরাপদ সড়ক চাই আরো অন্যান্য অনেক সংস্থা। এই সংস্থা গুলো সড়কে কোন উদ্যোগ না নিয়ে বড় বড় হোটেলে সেমিনার, সংবাদ সম্মেলন করে কি হবে?

যাত্রী, পথচারী ও ড্রাইভারকে সচেতন করতে হলে সড়কে কাজ করতে হবে। রাস্তায় নেমে সচেতন করতে হবে। তারা যদি একটু যাত্রী এবং ড্রাইভারদের সচেতন করার জন্য বাস, ট্রাক, লঞ্চ, লেগুনা, পিকাপ টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডগুলোতে কর্তৃপক্ষ তাদের মাঠ কর্মী দিয়ে সেমিনার, লিফলেট, ফেস্টুন, ব্যানার দিয়ে পথচারী যাত্রী ড্রাইভার সকলকে সচেতন করার জন্য যদি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে এই অসচেতনতা, অসাবধানতা ও অদক্ষতা দূর হবে।

সড়ক মহাসড়কে ১০০ জন ড্রাইভারদের মধ্যে ৯০ জন ড্রাইভারের নাই কোন জীবন বীমা, নাই কোন নিয়োগপত্র, নাই কোন স্বাস্থ্য সেবা, নাই কোন বৈধ্য কাগজপত্র। শ্রমিকরা ৮ ঘন্টার জন্য মে দিবস পালন করে অথচ তারা ৮ ঘন্টার জায়গায় ২৪ ঘন্টাই ডিউটি করছে। সকাল ৬ টায় গাড়ী বের করে রাত ১২ টা পর্যন্ত গাড়ী চালায়। অনেক সময় রাত ১২ টায় গাড়ী বুঝে নিয়ে চেক ও মেরামত করে বের হতে হয়।

অনেক যাত্রী অফিসে বা তার গন্তব্য স্থলে পৌছনোর জন্য তাড়াহুড়ো করে যাওয়ার তারনায় বাস স্টপিজে আসার আগেই চলন্ত গাড়িতে দৌড়ে উঠে।

গাড়িতে সিট থাকা সত্তে¡ও দারিয়ে যায় জানালার বাহিরে হাত দিয়ে রাখে।

অনেক যাত্রী পরিবহনে অনেক উপদেশ বানী বা সচেতনতা মূলক বানী থাকে যেমন: অচেনা মানুষের দেয়া খাবার খাবেন না, জানালার বাহিরে হাত দিবেন না, সময়ের চেয়ে জিবনের মূল্য অনেক বেশি, আগে নামতে দিন, পরে উঠুন, গাড়িতে ধুমপান করিবেন না ইত্যাদি থাকা সত্তে¡ও এত অঘটনের পরেও বিবেকহীন যাত্রী মানবের টনক নড়েনা।

যাত্রী উঠা নামার সময় হেলপারকে অবশ্যই নিচে নেমে দাড়াতে হবে।

এক যাত্রী অন্য যাত্রীর সুবিধার্থে গাড়ীতে উঠা নামার সময় ব্যাগ কাধে না রেখে হাতে নিতে হবে।

এভাবেই অসচেতনতা, অদক্ষতা, অসাবধানতা এবং অসতর্কতা থেকেই হয়ে যায় বেপরোয়া যন্ত্র দানব।

মোঃ তাজুল ইসলাম তাজেল