তরমুজ উৎসবে মাতোয়ারা উপকূলের হাট

নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণাঞ্চলে মৌসুমি ফল তরমুজ আবাদে অন্যতম এলাকা হিসেবে সুপরিচিত উপকূলের পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা। সেখানকার দিগন্তজোড়া মাঠে শুধুই সবুজের সমারোহ। চোখে পড়বে লতায় মোড়ানো গাড় সবুজ পাতা, তারই ফাঁকে হালকা সবুজের ওপর গাড় ছাপার রসালো ফল তরমুজ। ভরা মৌসুম চলায় পরিচর্যা, কাটা, পরিবহন ও বাজারজাত করা নিয়ে চাষিদের ব্যস্ততা। এ কারণে ক্ষেত, পথ-ঘাট, ট্রলার কিংবা লঞ্চে যত্রতত্র তরমুজ।

পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এখানকার তরমুজের গুণগতমান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছে। ফলে এ এলাকার তরমুজের চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। তাই এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসলের জায়গা দখল করে নিয়েছে তরমুজ। এখন এ তরমুজ নিয়েই চাষিরা স্বপ্ন পূরণের আশা বুকে বাঁধে। উপজেলার কাউখালী গ্রামের তরমুজ চাষি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘রাঙ্গাবালীর তরমুজ খেতে ভাল, বড় ও রঙ লাল টুকটুকে হওয়ায় ঢাকার মানুষের কাছে খুবই পরিচিতি লাভ করেছে। একারণেই এখানকার তরমুজের চাহিদা বেশি। অনেক চাষি বছরে কেবল তরমুজ আবাদ করেই জীবিকা নির্বাহ করার স্বপ্ন দেখে।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বাহেরচর ঘাট, চরইমারশন ঘাট, কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট, গহিনখালী, খালগোড়া ঘাট, কাজির হাওলা ঘাটসহ সর্বত্রই তরমুজের ছড়াছড়ি। কেউ ট্রলি থেকে তরমুজ নামিয়ে ঘাটে স্তূপ করছে। কেউবা ঘাট থেকে লঞ্চ কিংবা ট্রলার বোঝাই করে তরমুজ উঠচ্ছে। আবার বাজারজাত করতে ওইসব তরমুজ নৌযান বোঝাই করে প্রতিদিন উপজেলার আগুনমুখা, বুড়াগৌরাঙ্গ, দারচিরা এবং রামনাবাদ নদী হয়ে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলার অভিমুখে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি তরমুজ মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫ হাজার চাষি তরমুজ আবাদ করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি হেক্টরে ৩৫ মেট্রিক টন হারে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫শ’ মেট্রিকটন ফলন উৎপাদন হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় ১৫শ’ হেক্টর জমিতে আবাদ কম হয়েছে।

জানা গেছে, গতবছর টানা বৃষ্টি-বর্ষণের কারণে তরমুজ চাষিদের স্বপ্ন-ম্লান হয়েছিল। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কোন ধরণের দুর্যোগ না হলে গতবছরের সেই ক্ষতি পুষিয়ে চাষিরা লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় তরমুজ চাষিরা জানায়, প্রায় ১৬-১৮ বছর আগে এই উপজেলায় তরমুজ আবাদ শুরু হয়। মাটি, পানি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা প্রতিবছরই তরমুজ চাষে ঝুঁকছে। ফলে বাড়ছে চাষির সংখ্যা। বাড়ছে তরমুজ আবাদে জমির পরিমাণও। এখানকার মানুষের প্রধান অর্থকরী ফসল এখন তরমুজ। দিনদিন এর আবাদ ছড়িয়ে পড়েছে উপকূলের সর্বত্র। চাষিদের পাশাপাশি দিনমজুররাও প্রতিবছর এই মৌসুমের অপেক্ষায় থাকে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) আব্দুল মান্নান বলেন, ‘রাঙ্গাবালীর জমি তরমুজ আবাদে উপযোগী। একারণে ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের তরমুজ আবাদে আগ্রহ বাড়ছে। এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন আরও ভালো হলে প্রতি হেক্টরে ৪০-৪৫ মেট্রিকটন তরমুজ উৎপাদন হবে বলে আশা রাখি।’