রোহিঙ্গা সংকটে ঢাকাকে কমনওয়েলথ নেতাদের অকুণ্ঠ সমর্থন

নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইনে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে রোহিঙ্গা নিপীড়নে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানরা।

লন্ডনে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণায় এ আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা অস্তিত্ব সংকটে পড়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কমনওয়েলথ নেতারা সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছেন।

এই রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভূমিতে ফেরা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা প্রত্যাশা করে মঙ্গলবার লন্ডনে এক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার যাতে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করে সে জন্য দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও চাপ সৃষ্টি করা উচিত।

রোহিঙ্গা সংকটের অবসানে গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সম্মেলনে তার দেওয়া পাঁচ দফা প্রস্তাবও কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কফি আনান নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নেও তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

‘সবার জন্য গড়ব একই ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার বাকিংহাম প্যালেসে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের ২৫তম শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। উদ্বোধনী দিনের অধিবেশনগুলোতে দেওয়া বক্তৃতায় সদস্য দেশগুলোর পরিবর্তনশীল চাহিদা ও প্রত্যাশা পূরণে কমনওয়েলথের বিভিন্ন সংস্থার ভূমিকা ও কার্যক্রম পুনর্নির্ধারণ ও পুনর্গঠনের প্রস্তাব করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জনে সংস্থাটির সচিবালয়ের আমূল সংস্কারের ওপরও জোর দেন তিনি।

শেখ হাসিনা-তেরেসা মে আলোচনা: কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। লন্ডনের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে কনফারেন্স মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত শেষ সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন কমনওয়েলথের নেতারা।

কমনওয়েলথ সম্মেলন শেষে শুক্রবার গ্রানাডা, সামোয়া ও ঘানার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন তেরেসা মে। এ সময় সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকারপ্রধানদের বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এশিয়ার কোনো নেতা নেই উল্লেখ করে ভারতের এক সাংবাদিক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এশিয়ার দেশগুলোর কোনো সরকারপ্রধানের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় কোনো বৈঠক হয়েছে কি-না।

জবাবে তেরেসা মে জানান, কমনওয়েলথ সম্মেলন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ করে দেয়। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্নিষ্ট বিষয় নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় নানা ইস্যুতে তার আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় ব্রিটেন ও এশীয় দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্নিষ্ট বিষয় নিয়ে তারা কথা বলেছেন।

দুই বছর পর কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের আগামী শীর্ষ সম্মেলন রুয়ান্ডায় অনুষ্ঠিত হবে বলে সাংবাদিকদের জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় সম্মেলনে গৃহীত সব সিদ্ধান্তের মুদ্রিত কপি সাংবাদিকদের সরবরাহ করা হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ গাইড লাইন আপগ্রেড, কমনওয়েলথ ব্লু চার্টার অ্যাগ্রিমেন্ট, ২০৩০ সালের মধ্যে আন্তঃকমনওয়েলথ বাণিজ্যের পরিমাণ দুই ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, আইন ও নীতির মাধ্যমে নারী বৈষম্য মোকাবেলা এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিতে তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া।

সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান: সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন কমনওয়েলথ নেতারা।

বাসস জানায়, লন্ডনে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনের (সিএইচওজিএম) ঘোষণায় জোটের ৫৩ নেতা সাইবার অপরাধ বন্ধে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। এ ঘোষণা সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং ভৌগোলিক দিক থেকে আন্তঃসরকারের একটি বলিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি।

কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেল প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড বলেন, সাইবার স্পেস আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। কমনওয়েলথ সদস্য রাষ্ট্রসমূহ জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় যে কোনো সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে পৃথক কিংবা সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নিতে পারবে।