নির্বাচনে আসতে খালেদার মুক্তির শর্ত অযৌক্তিক: ইনু

নিউজ ডেস্ক: জাসদের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, নির্বাচনে আসতে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিএনপির শর্ত অযৌক্তিক। কেনো দণ্ডিত অপরাধীর মুক্তির শর্তে যদি কেউ নির্বাচনে আসতে চায়, তাতে সরকার সায় দেবে না। এটি অরাজনৈতিক শর্ত। এই শর্ত মেনে নেওয়ার অর্থ হচ্ছে দেশে অপরাধতন্ত্রকে মেনে নেওয়া।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে ডিআরইউ আয়েজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে হাসানুল হক ইনু এসব কথা বলেন। ডিআরইউ’র সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ।

ইনু বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় আঘাত হানতে চাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দণ্ডিত অপরাধীর মুক্তির প্রশুটা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে। তারা নির্বাচন বর্জনের পাঁয়তারা করছে। নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকার’র যে দাবি তারা তুলেছে, সেটিও নির্বাচন বানচালের চেষ্টার ষড়যন্ত্র।

তিনি বলেন, বিএনপির কাছে ভোট বড় কথা নয়। তাদের এজেন্ডা হচ্ছে বাংলাদেশকে পাকিস্তান পন্থার পথে আবারও ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। চক্রান্তের পথে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেটা মোকাবেলায় সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দিতে হবে।

জাসদ সভাপতি বলেন, সামনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা রাজনৈতিক কর্তব্য রয়েছে। যেকোনো মূল্যে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, অসাংবিধানিক সরকারের চেয়ে সাংবিধানিক সরকারই দেশের জন্য মঙ্গলজনক। নির্বাচন বানচাল হয়ে গেলে দেশে অস্বাভাবিক সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। সেই সরকার দেশে রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। কোনো অবস্থায়ই দেশ আর পেছন দিকে যেতে পারে না।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর দেশ কোন পথে যাবে- সেই প্রশ্নের মীমাংসা হবে। এই মীমাংসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ টিকবে কি টিকবে না সেটাও নির্ধারিত হবে। যেকোনো মূল্যে রাজাকার-জঙ্গিবাদী-আগুনসন্ত্রাসী ও তার সঙ্গী বিএনপি এবং খালেদা জিয়াকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য সামনে নিয়ে আমরা আগামী ছয়টি মাস অতিক্রম করবো।

নির্বাচনে বিএনপির সেনা মোতায়েনের দাবি সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবিতে বিএনপি সোচ্চার হয়েছে। অথচ তারা ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ফল না মেনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। ২০০৮ সালে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সেনা মোতায়েন করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করেছিল। সেই ভোটের ফলাফলও বিএনপি মানেনি। সুতরাং বিএনপির কাছে ভোট বড় কথা নয়।