চেরি নয় যেন মুক্তা ঝরে পিচ ঢালা পথে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভোরে সোনালী আভা ছড়িয়ে উঠেছে সূর্য। রৌদ্রোজ্জ্বল দিন। যতদূর চোখ যায় শুধু থোকায় থোকায় ফুটে আছে বাহারি রঙের ফুল। গোলাপি, সাদা ও লাল কতো না রঙ। ফুলের মৌ মৌ গন্ধে হিয়া জুড়িয়ে যায়। মনে জাগে আনন্দ শিহরণ। পাপড়ি মেলে তেজে ফুটে থাকা ফুলগুলো যেন সুন্দরী রমনীদের হিরের নাক ফুল।

গায়ে ফোটা ফোটা সোনালী রঙ। যে ঈশ্বরের ইচ্ছায় আপন মনে ফুটেছে তারা, নিজের প্রয়োজনেই। কখনও বা শীতল বাতাসে মনের সুখের ঝরে পড়ে মাটিতে, দূর থেকে দেখলে মনে হয় চেরি নয় যেন মুক্তা ঝরে পিচ ঢালা পথে…।

হাটছিলাম জার্মানির বার্লিনের পিচ ঢালা পথ দিয়ে। বলছিলাম বার্লিনে ফোটা চেরি ফুলের কথা। পিচঢালা পথের পাশে কিংবা সাদা মার্বেল পাথরের বাড়ির সামনের সুন্দর্য বর্ধনের জন্য সারি সারি লাগানো হয়েছে চেরি। বসন্তকালে রঙে ঢঙে ফোটে চেরি ফুল। দেখলে মনে হয় প্রকৃতি যেন রং ধনুর সাত রঙ মেখে সেজেছে তার আপন মনে।

গুচ্ছবদ্ধ ফুলগুলো প্রধাণত গোলাপি, সাদা ও লাল রংয়ের হয়। পাপড়ি ও ফুলের গড়ন বিচিত্র। এমন কোন অঞ্চল নেই যেখানে চেরি ফুলের গাছ নেই। আশ্চর্য এক চেরি ফুলের দেশ!

মার্চের মাঝামাঝি সময়ে হালকা গরম থাকে। তখণ রুক্ষ চেরি গাছগুলোর কাণ্ড ভেদ করে কুঁড়ি বের হয়। প্রকোপ না কমলে কুঁড়িগুলো গুটি অবস্থাতেই থাকে। প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিলে সাধারণত চেরি ফুল ফোটে। এ সময়টা গোটা জার্মানিকে মনে হয় চেরি ফুলের স্বর্গ রাজ্য। বিশাল বিশাল পাতাবিহীন পুরোগাছটাকে মনে হয় চেরির রাজ্য!

রাস্তার দুই ধারে আপনাকে স্বাগত জানাবে হাজারও চেরি ফুল এবং এর মাঝ দিয়ে আপনি অংশ নিতে পারেন হাফ ম্যারাথন, ১০ কিলোমিটার ম্যারাথন অথবা পাঁচ কিলোমিটার ম্যারাথনে। নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্য যদি আপনাকে টানে, তবে ঘুরে আসতে পারেন এই জায়গাগুলো এবং বসন্তকাল হতে পারে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময়।