কাশ্মীরের হত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসে স্মারকলিপি প্রদান

 

নিউজ ডেস্ক : কাশ্মীরের ৮ বছর বয়সী মুসলিম শিশু আসিফাকে একটি মন্দিরে আটকে রেখে একদল হিন্দুর নৃশংস গণশ্লীলতাহানী ও হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্টজনরা। ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসে দেয়া এক স্মারকলিপিতে দ্রæততম সময়ে অপরাধীদের বিচার দাবির পাশাপাশি ওই ঘটনায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও ক্ষমতাসীন বিজেপির মন্ত্রীদের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদলিপিটি পাঠিয়েছেন মাসিক আল-বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল-ইহসান পত্রিকার সম্পাদক আল্লামা মুহম্মদ মাহবুব আলম, সাংবাদিক সাইয়্যিদ মুক্তাদুল হুসাইন ও সাংবাদিক মুহম্মদ আরিফুর রহমান; বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট এস. এম. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মুহম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বিশিষ্ট ফার্মাসিস্ট এ.বি.এম. রুহুল হাসান, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ মুহম্মদ আব্দুল আলী, বিশিষ্ট প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ আমিনুল ইসলাম মিয়া।
আজ (রবিবার) সকাল ১১টায় স্মারকলিপিটি ভারতীয় দূতাবাসে প্রদান করা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা সেলিনা।
শিশু আসিফার শ্লীলতাহানী ও হত্যাকাÐ প্রসঙ্গে স্মারকলিপিতে বলা হয়, এই ঘটনাটি ভারতের আর দশটি ধর্ষণের মতো কেবলই একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং এটি আসিফার যাযাবর মুসলিম বাখারওয়াল স¤প্রদায়কে কাশ্মীর থেকে বিতাড়নের উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পিত আক্রমণ। অপরাধের সাথে যুক্ত সবাই হিন্দু। কিছু উগ্রপন্থি হিন্দু সংগঠন ইতোমধ্যে অপরাধীদের পক্ষে মিছিল-সমাবেশ করেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপির বনমন্ত্রী লাল সিং চৌধুরী ও শ্রম মন্ত্রী চন্দ্র প্রকাশ ওইসব মিছিলে যোগ দিয়েছে। “নিউ ইয়র্ক টাইমস” পত্রিকাকে অপরাধীদের পক্ষে মিছিলে অংশ নেয়া একজন উগ্র হিন্দুত্ববাদী বলেছে, এই গ্রেফতার “আমাদের ধর্মের বিরুদ্ধে” এবং গ্রেফতারকৃতদেরকে মুক্তি না দিলে তারা নিজেদের গায়ে আগুন দিবে।
ভারতে হিন্দু অপরাধীরা যৌন হামলাকে মুসলিম স¤প্রদায়কে আতঙ্কিত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার শুরু করায় স্মারকলিপিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তদুপরি, আসিফার ঘটনায় বিজেপির মন্ত্রী ও উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের জঘন্য প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের মুসলিমরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ বলে স্মারকলিপিতে জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বিশিষ্ট নাগরিকগণ বলেন, “আমরা আসিফা বানুর ধর্ষণ ও হত্যাকাÐের পাশবিক ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানাই। পাশাপাশি, আমরা ভারতীয় মন্ত্রী ও উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের ন্যক্কারজনক প্রতিক্রিয়ার নিন্দা জানাই।”
সবশেষে এই ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রæততম সময়ে বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।