ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনা ত্রিভুবন কর্তৃপক্ষের কারণে

নিউজ ডেস্ক : বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনার জন্য নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দায়ী বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ।

সংস্থাটি বলছে, ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউএস-বাংলার বিমানকে দেয়া ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্স বাতিল না করে একই সময়ে অন্য এয়ারলাইনসের ফ্লাইট অবতরণের অনুমতি দিয়ে আন্তর্জাতিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। এ ছাড়া বিমান দুর্ঘটনায় পড়ায় বিমানবন্দরের উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত সময়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলে হতাহতের সংখ্যা কম হতো বলেও জানিয়েছে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা-সিইও ইমরান আসিফ। গত ১২ মার্চ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলার ফ্লাইটটি কাঠমান্ডুতে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়।

এতে বিমানটিতে থাকা ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫১ জনই নিহত হন। এর মধ্যে বিমানের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান ও কো-ক্যাপ্টেন পৃথুলা রশিদসহ ২৬ বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এ দুর্ঘটনার এক মাস ১০ দিন পর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে রোববার সংবাদ সম্মেলনে আসে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ।

এতে এয়ারলাইনসটির সিইও বলেন, নেপাল ও বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত প্লেনটিতে কোনো টেকনিক্যাল ত্রুটি ছিল না। ইউএস-বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদনেও কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল না বলে প্রতীয়মান হয়। তিনি জানান, দুর্ঘটনার এক মাস পর নেপাল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি প্রাথমিক একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।

এতে দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার ২ মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইমরান আসিফ বলেন, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত বিমান যাত্রীদের কাছ থেকে আমরা যা জেনেছি, তাতে আমাদের ধারণা যে প্রকৃতভাবেই ২ মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা নিয়োজিত হয়ে থাকলে হতাহতের সংখ্যা অনেক কম হতো।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে আপনারা জেনেছেন দুর্ঘটনার আগে নেপালের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাইলটকে বিভ্রান্তিকর নির্দেশনাবলী দেয়া হয়েছিল।

ইমরান আসিফ বলেন, কাঠমান্ডুর কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ইউএস-বাংলার পাইলটদের ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্স দেয়ার পর তা বাতিল না করেই এয়ারক্রাফটিকে অন্য জায়গায় হোল্ডিং করতে বলা হয় এবং একই সময় অন্য এয়ারলাইনসের ফ্লাইট অবতরণ করতেও দেয়া হয়।

তিনি বলেন, একটি ফ্লাইটকে দেয়া অবতরণের অনুমতি বাতিল না করেই অন্য ফ্লাইটকে অবতরণ বা উড্ডয়ন করতে দেয়া আন্তর্জাতিক নিয়মের ব্যত্যয়। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দর। সেখানে এ পর্যন্ত অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ কথা উল্লেখ করে ইউএস-বাংলার সিইও তাদের ফ্লাইটের দুর্ঘটনায় পড়ার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

সিইও বলেন, নেপালের তদন্ত রিপোর্টে ১২ মার্চ দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে ইউএস-বাংলার বিমানের যোগাযোগে ত্রুটির বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সেই সময় ২৫ সেকেন্ডের জন্য টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু সেটিই স্বাভাবকি। কেননা সাধারণত ফাইনাল ল্যান্ডিং অ্যাপ্রোচের সময় টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের কথাবার্তা হয় না।

তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিমানটির অবতরণের সময় অ্যালাইনমেন্ট সঠিক ছিল না বলে যে কথা বলা হয়েছে তাও সঠিক নয়। কারণ নেপালের তদন্ত রিপোর্টে এ ধরনের কথা বলা হয়নি।

দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বরত ছয়জন কন্ট্রোলারকে তড়িঘড়ি করে পর দিনই নেপাল এয়ারপোর্ট অথরিটি বদলির আদেশ দেয় জানিয়ে ইমরান আসিফ বলেন, তাদের কেন বদলি করা হয়েছে তা আমরা জানি না। তবে গাফিলতি ছাড়া এমন পদক্ষেপ নেয়া স্বাভাবিক নয় বলেই আমরা মনে করি।

প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে এ ছয়জনের বিষয়ে কোনো কিছুই প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান ইউএস-বাংলার প্রধান নির্বাহী