আইএসে যোগ দেওয়া সেই নারীরা কোথায়?

নিউজ ডেস্ক: রাশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মুসলিম পুরুষ তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বাহিনীতে যোগ দিতে প্রলুব্ধ হয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দেশ ছাড়ে। কিন্তু গতবছর খিলাফত প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে তারা পরাজিত হলে এসব পরিবার রীতিমত হাওয়া হয়ে গেছে।

রাশিয়ায় তাদের পরিবারগুলো তাদের সম্পর্কে খবর জানতে মরিয়া। ক্রেমলিন এসব শিশুদের ফেরত নিতে চাইছে। তাদের বক্তব্য, এই শিশুরা কোনো অপরাধ করেনি। কিন্তু এসব শিশু ও তাদের মায়েদের খুঁজে বের করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ ।

ইরাকি কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের কাছে অনেক আইএস পরিবার আটক আছে। কিন্তু তাদের নাম তারা প্রকাশ করবে না। তবে বন্দী দশা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারো কারো পাঠানো বার্তা, ছবি, ভিডিও নারী ও শিশুদের আটকের বিষয়ে তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করে। বিবিসির টিম হিইয়েল কয়েক মাস ধরে বিষয়টির অনুসন্ধান করছিলেন ও তিনি ইরাকেও যান আরও তথ্যের সন্ধানে।

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের চেচনিয়ার একটি বাড়িতে বসে মধ্যবয়স্ক একজন নারী তার মেয়ে সিয়াদার ভিডিও দেখাচ্ছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ১৯ বছরের তরুণী সিয়াদার পরনে আঁটসাঁট টি-শার্ট ও জিনস প্যান্ট। তার মা নিজের মেয়ের সম্পর্কে কথা বলার সময় অনেক কষ্টে নিজের কান্না সংবরণের চেষ্টা করছিলেন।

তিনি জানান, তার মেয়ে ব্রান্ডের যেকোনো জিনিস পছন্দ করতো। রেখে যাওয়া ব্যাগ, জামাকাপড়, জুতো, এখনো এখানেই আছে। ২০১৫ সালে স্বামীর সঙ্গে তুরস্কে যাওয়ার পর থেকে সে আর ফিরে আসেনি। তার স্বামী তাকে নিয়ে গেছে ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে। দুই সপ্তাহ পরে হোয়াটসঅ্যাপে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। অনেকক্ষণ ধরে সে কাঁদতে থাকে। তার কান্না থামছিলই না। এরপর সে বলে, মা আমি সিরিয়াতে। সেই মুহূর্তে আমার পৃথিবী যেন অকস্মাৎ খান খান হয়ে গেল।

তিন বছর হল সেখানে আইএস পরাজিত হয়েছে। সিয়াদার স্বামী ও অন্যান্য আইএস যোদ্ধারা নিহত হয়েছে। কিন্তু সিয়াদা ও তার দুই সন্তানের কোনো খোঁজ নেই।

মধ্যপ্রাচ্যে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া আরেকজন রুশানা। সে ইরাকের কোনো একটি জায়গা থেকে মস্কোতে তার বোনের কাছে একটি বার্তা পাঠায়। অডিও বার্তায় সে ফিসফিস করে বলে, ‘কেন তারা আমাদের বন্দী হিসেবে আটকে রেখেছে? আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। এখানে ভীষণ ঠাণ্ডা। তারা এমনকি আমাদের কম্বলও দিচ্ছে না।

তাদের যে রক্ষী পাহারা দেয় তার দয়ার কারণে রুশানা এই বার্তা পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন। কারণ তার ও আটক অন্যান্য মেয়েদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। রুশানা জানান, দুইশ’ নারী ও শিশুকে দু’টি কক্ষের ভেতর গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। তাদের ইরানের পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছে ইরাকি অপহরণকারীরা।

তিনি বলেন, তারা আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কিছু ইরানি লোক এসে আমাদের ভিডিও করে নিয়ে গেছে। আর কেবল সেই সময়টুকুর জন্যই প্রথমবার আমাদের বাইরে নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু তারা কোথায় আছে ও কারা তাদের আটকে রেখেছে তা জানা সম্ভব হয়নি।