খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে দায় সরকারের : ফখরুল

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায় সরকারকেই বহন করতে হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শনিবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন,‘দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য কারাগারে ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আমরা যে খবর পাচ্ছি তাতে সারাদেশ জাতি উৎকণ্ঠিত। গতকাল তাঁর পরিবারের সদস্যরা পূর্ব সিদ্ধান্তে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। তার আগে তারিখে আমিসহ আমাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব মির্জা আব্বাস ও জনাব নজরুল ইসলাম খানকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সুস্পষ্টভাবে কোন কারণ দেখানো হয়নি।’

খালেদা জিয়া বেশ কিছু ব্যাধিতে আক্রান্ত উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, এর মধ্যে এক্যুইট রিউমেটিক আর্থারাইটিস তাঁকে বেশ কষ্ট দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে খালেদা জিয়ার পছন্দনীয় হাসপাতাল ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করেছেন। বিশেষ করে কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা এবং এমআর, চোখের পরীক্ষা তাঁর জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। অথচ এ ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে কোন বক্তব্য আমাদের দেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের গণমানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। মিথ্যা সাজানো মামলায় তাঁকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে তাঁকে এবং তাঁর দলকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। গণবিচ্ছিন্ন ও রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া সরকারের ২০১৪ এর মতো একতরফা নির্বাচনের প্রহসনের মধ্য দিয়ে আবারও ক্ষমতা দখলই হচ্ছে তাদের মূল উদ্দেশ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি ডাক্তারদের সুপারিশকৃত অর্থপেডিক বেডরুম সরবরাহ না করা, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা না করানো, দলের নেতাদের ও পরিবারের সদস্যদের খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা না করতে দেওয়া অত্যন্ত হীনউদ্দেশ্যমূলক। সরকারের মন্ত্রীদের এ বিষয়ে মন্তব্য এবং কটূক্তি সকল শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ।’

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এতো ভয় কেন? বেগম জিয়াকে মাঠে নামতে দিন-বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দিন,যথেচ্ছ পুলিশ ব্যবহার বন্ধ করুন-দেখুন আপনারা কোথায় দাঁড়াতে পারেন। রাজনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাহস আপনাদের নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন,মির্জা আব্বাস,গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,নজরুল ইসলাম খান,আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী,সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।