বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ও মহাকাশে বাংলাদেশ

রুশো তাহের: বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নদর্শী নেতৃত্বে সমুদ্র জয়ের পর এবার মহাকাশ জয়- অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতিতে বাংলাদেশ- মহাকাশে স্থাপন করতে যাচ্ছে কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’। এটি জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইট বা ভূ-স্থির উপগ্রহ। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর দেশের তালিকায় যুক্ত হবে বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে ৪ মে, ২০১৮ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণ উদ্বোধন করবেন।

১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মহাকাশ যাত্রার সূচনা করে গেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর ওই যাত্রা থেমে যায়। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ৪২ বছর পর লাল-সবুজের পতাকা বহন করে কক্ষপথে স্থাপিত হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেট স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠাবে। এটি নির্মাণ করেছে ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। সেখান থেকে এটি নিয়ে যাওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ কার্নিভ্যালে। স্পেসএক্সে লঞ্চ ফ্যাসিলিটিতে লঞ্চ ভেহিকলের ইন্ট্রিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটি মহাকাশের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা হবে। মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর আট দিন উড়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপিত হবে। এখানে বলা প্রয়োজন যে, মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপনের কাজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে ‘বঙ্গবন্ধু’ নাম থাকার কারণে মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপনের প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়। যা ছিল প্রযুক্তিগতভাবে চরম কাণ্ডজ্ঞানহীন। আর এজন্যই বাংলাদেশ মহাকাশে অরবিটাল স্লট হারিয়েছে। তাই ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণের জন্য বাংলাদেশকে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য কক্ষপথ বা অরবিটাল স্লট ক্রয় করতে হয়েছে।

মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া দেশের বাইরে সম্পন্ন হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাংলাদেশ থেকেই আর এ জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও আমদানি করেছে বিটিআরসি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশ ব্যবহার করবে। বাকি ২০টি অন্যান্য দেশকে ভাড়া দেয়া হবে। দেশের ৩৭টি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের কাছে ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রির মাধ্যমে বছরে প্রায় ১২৫ কোটি ডলার আয় হবে। এসব চ্যানেল এখন বিদেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট থেকে ফ্রিকোয়েন্সি কিনে অনুষ্ঠান প্রচার করছে। এতে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। তবে এ টিভি চ্যানেলগুলো এখনকার প্রচলিত ক্যাবলভিত্তিক প্রচারের পরিবর্তে ছোট ডিশ অ্যান্টেনার সরাসরি টিভি সিগন্যাল পাবে। তাছাড়া উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ, দেশের দুর্গম, দ্বীপ, নদী ও হাওর এবং পাহাড়ি অঞ্চলে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা চালুও সম্ভব হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ স্থাপনের মাধ্যমে। মোদ্দা কথা, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ মহাকাশে স্থাপনের মধ্য দিয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ-প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ত্বরান্বিত ও টেকসই হবে বৈকি।

স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অন্দরমহল যোগাযোগ উপগ্রহ হচ্ছে পৃথিবীকে ঘিরে রকেটের মাধ্যমে কক্ষপথের যথাযথ স্থানে স্থাপিত মহাশূন্যযান যা বেতার সংকেত গ্রহণ ও প্রেরণ করে। স্যাটেলাইট বা যোগাযোগ উপগ্রহ এসব সংকেতকে বিবর্ধিত ও বাছাই করে এমনকি এর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এর বিস্তৃতি আরো ব্যাপক। যে স্যাটেলাইট পৃথিবী থেকে যত বেশি দূরে অবস্থিত, তার আবর্তনকাল তত বেশি। পৃথিবী পৃষ্ঠের নিকটবর্তী স্যাটেলাইটের আবর্তনকাল প্রায় ৯০ মিনিট। এদিকে পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫,৮০০ কি.মি দূরের স্যাটেলাইটের আবর্তনকাল ২৪ ঘণ্টা এবং ৩,৮৪,০০০ কি.মি. দূরের স্যাটেলাইটের আবর্তনকাল ৩০ দিন। স্যাটেলাইটের আবর্তনকাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ। আবর্তনকালের সঙ্গে মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপনে ভ্যান অ্যালেন বেল্টের অবস্থান বিবেচনায় নিতে হয়।

ভ্যান অ্যালেন বেল্ট কী? উচ্চশক্তির আহিত বা চার্জড কণিকা পৃথিবীর ভূ-চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা আবদ্ধ হয়ে পৃথিবীকে ঘিরে প্রবল বিকিরণ-বন্ধনী বা বেল্ট তৈরি করে। একে ভ্যান অ্যালেন বেল্ট বলে। এতে প্রধানত ইলেক্ট্রন ও প্রোটন থাকে। পৃথিবী পৃষ্ঠের কয়েক শত কিলোমিটার থেকে শুরু করে পৃথিবীর ব্যাসার্ধের (৬৩৭১ কি.মি) আটগুণ পর্যন্ত এ বেল্ট বিস্তৃত। ১৯৫৮ সালে বিজ্ঞানী জেমস ভ্যান অ্যালেন ও তার সহকর্মীরা এ বিকিরণ ভেল্টের সন্ধান পান। সূর্য থেকে প্রতিনিয়ত প্লাজমা-প্রবাহ পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের ওপর এসে পড়ছে। এই প্লাজমার কিছু ইলেকট্রন ও প্রোটন ভূ-চৌম্বক ক্ষেত্রে আটকা পড়ে ভ্যান অ্যালেন বেল্ট তৈরি করে।

যোগাযোগ স্যাটেলাইটের প্রকারভেদ জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইট বা ভূ-স্থির উপগ্রহ: ভূ-স্থির উপগ্রহের বিষয়টা বেশ চমৎকার। এর গতিপথ এমন যে, প্রত্যেকটি উপগ্রহ ভূ-পৃষ্ঠের পরিপ্রেক্ষিতে স্থির; একেকটি ভূ-স্থির উপগ্রহের আপাত অবস্থান একেক নির্দিষ্ট স্থানের ঠিক উপরে, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩৫,৭৯৪ কিলোমিটার উচ্চতায়। আপাতদৃষ্টিতে শূন্যে এমন উঁচুতে কোনো বস্তুরই তো স্থির দাঁড়িয়ে থাকার কথা নয় বরং মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে সেটির ধরাপৃষ্ঠে পতিত হওয়াই স্বাভাবিক। এ আশ্চর্য আপাত স্থির অবস্থানের কারণ হলো ভূ-স্থির উপগ্রহের কক্ষপথটি হচ্ছে ক্লার্কের কক্ষপথ।

ক্লার্কের কক্ষপথ বা ক্লার্কস অরবিট কী: যে কোনো সুস্থিত গতিপথে আবর্তক গতির জন্য শর্ত হলো, কেন্দ্রমুখী বল ও কেন্দ্রাতিগ বলের সাম্য। পৃথিবীকে বৃত্তপথে প্রদক্ষিণরত যে কোনো উপগ্রহের ক্ষেত্রে কেন্দ্রমুখীবল নির্ভর করবে ভূ-কেন্দ্র থেকে ওই উপগ্রহের দূরত্ব ও ভরের ওপর আর কেন্দ্রাতিগবল নির্ভর করবে উপগ্রহটির কৌণিক বেগ (মানে, কত দ্রুত সেটি পাক খাচ্ছে) ও ভরের ওপর। অতএব পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে (তাই পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকেও, যেহেতু পৃথিবী গোলাকার) ভিন্ন ভিন্ন দূরত্ব বজায় রেখে প্রদক্ষিণরত উপগ্রহসমূহের কৌণিক বেগ ভিন্ন ভিন্ন হবে এবং সেজন্য আবর্তনকালও ভিন্ন ভিন্ন হবে। যেহেতু পৃথিবীর নিকটতর বস্তুর ওপর পৃথিবীর আকর্ষণ, দূরবর্তী বস্তুর ওপর প্রযুক্ত আকর্ষণ থেকে বেশি, তাই স্থির দূরত্বে থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণরত পৃথিবীর নিকটতর উপগ্রহের কৌণিক বেগ, দূরবর্তী উপগ্রহের কৌণিক বেগ থেকে বেশি হতে হবে। অর্থাৎ, কম দূরত্বে থেকে প্রদক্ষিণরত নিকটতর উপগ্রহের আবর্তনকাল, বেশি দূরত্বে থেকে প্রদক্ষিণরত উপগ্রহের আবর্তনকাল থেকে কম হবে। একটি বিশেষ দূরত্বে থেকে কোনো উপগ্রহ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করলে এর আবর্তনকাল হবে, পৃথিবী তার নিজের অক্ষে ঘূর্ণনকালের সমান; অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা। হিসেব অনুযায়ী, সে দূরত্ব ভূ-কেন্দ্র থেকে ৪২,১৬৫ কি.মি (অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩৫,৭৯৪ কি.মি. কারণ ভূকেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব হলো ৬,৩৭১ কি.মি)। এমন কক্ষপথে উপগ্রহটির দ্রুতি হতে হবে প্রতি সেকেন্ডে ৩.০৭৫ কি.মি.।

এখন এমন দূরত্বের কক্ষপথটি যদি ঠিক বিষুবরেখার বরাবর ঊর্ধ্বে হয় অর্থাৎ তা যদি বিষুববৃত্তের সমান্তরাল একটি বৃহত্তর বৃত্তপথ হয় এবং যদি সে কক্ষপথে পরিভ্রমণরত উপগ্রহটির গতি পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে হয়, তবে উপগ্রহটি বিষুবরেখার যে স্থানের উপরে থেকে এমন গতিতে আবর্তনের জন্য স্থাপিত হবে, সব সময় ঠিক সে স্থানের ৩৫,৭৯৪ কি. মি. উপরেই সেটি অবস্থান করবে। পৃথিবীপৃষ্ঠের যে কোনো স্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সেটি স্থির বলে প্রতিভাত হবে; যদিও তার ‘বিরাম নেই আকাশের মাঝে’। যেহেতু পৃথিবী তার নিজ অক্ষে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে যতক্ষণে একপাক ঘুরবে (প্রায় ২৪ ঘণ্টা), ততক্ষণে সে উপগ্রহটিও পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করবে। পৃথিবীপৃষ্ঠের যে কোনো স্থান যতক্ষণে পৃথিবীর অক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করবে, উপগ্রহটিও ততক্ষণে ততটুকুই কৌণিক দূরত্ব অতিক্রম করবে। তাই উপগ্রহটি আবর্তনশীল হলেও পৃথিবীর যে কোনো স্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সেটির কোনো আপেক্ষিক গতি থাকবে না। এ ধরনের কক্ষপথের ধারণা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪৫ সাল ব্রিটিশ সাময়িকী ‘ওয়্যারলেস ওয়ার্ল্ড’-এ কল্পবিজ্ঞানলেখক ও পদার্থবিজ্ঞানী আর্থার সি. ক্লার্কের ‘এক্সট্রা-টেরিস্ট্রিয়াল রিলে’ প্রবন্ধে। ক্লার্কের মতে, সে কক্ষপথে ১২০ ডিগ্রি ব্যবধানে প্রদক্ষিণরত মাত্র তিনটি উপগ্রহের সাহায্যে পুরো পৃথিবীর সব জায়গা একটি বেতার-যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব। সেখানে পাহাড়-পর্বতের বাধা তো নয়ই, এমনকি পৃথিবীর গোলত্বের বাধাও কোনো সমস্যা নয়। তাই তার নামে ভূ-স্থির উপগ্রহের কক্ষপথটির নাম ক্লার্কস অরবিট রাখা হয়েছে।

মিও বা মিডিয়াম আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট: এ স্যাটেলাইট ভূ-স্থির স্যাটেলাইট থেকে পৃথিবীর নিকটবর্তী স্থাপিত হয়ে থাকে। এখন টেলিযোগাযোগে মিও স্যাটেলাইট ব্যবহার হয় না। উল্লেখ্য, পৃথিবীর ১৮,০০০ কি.মি. ভ্রমণরত ২৪ টি জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম মিও স্যাটেলাইটের দৃষ্টান্ত।

লিও বা লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট: লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে মাত্র কয়েক শত কি.মি. দূরে স্থাপন করা হয়। সাধারণত এদের ঘূর্ণনকাল প্রায় ৯০ মি. এদের স্থায়িত্বকাল দিন, সপ্তাহ বা কয়েক মাস হয়ে থাকে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ও মহাকাশে পথে বাংলাদেশ: মহাবিশ্ব-মহাকাশ অভিযানে কেবল ধনী ও প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর দেশ নয় বরং প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া দেশও অংশ নিচ্ছে এই মহাযজ্ঞে। কারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির তো সীমান্ত নেই। আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতায় পৃথিবীর নানা দেশ যৌথভাবে এখন মহাকাশ অভিযানে অংশ নিচ্ছে। মঙ্গলগ্রহে প্রেরণ করছে মনুষ্যহীন মহাকাশযান। নিকট ভবিষ্যতে মঙ্গলপৃষ্ঠে পদচিহ্ন রাখবে মানুষ। লাল ওই গ্রহ হতে পারে মানবজাতির দ্বিতীয় আবাসভূমি। শনিগ্রহের উপগ্রহ টাইটানে জীবনের সন্ধান করছেন বিজ্ঞানীরা। বসবাসেরও স্বপ্ন দেখছেন ও দেখাচ্ছেন। মিশন প্রেরণ করা হয়েছে বামনগ্রহ প্লুটোতে-এমনকি সৌরজগতের বাইরে মহাবিশ্বের হ্যাবিটেবল জোনে। বাংলাদেশও মহাজাগতিক এই কর্মযজ্ঞে যুক্ত হতে যাচ্ছে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে। আর এটি হচ্ছে, সৌরজগৎ ও এর বাইরে ছায়াপথ মিল্কিওয়ের অসংখ্য সোলার সিস্টেমের কোনো গ্রহে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানোর প্রথম পদক্ষেপ- একটি মাইলফলক, স্বপ্নময় অভিযাত্রার সূচনা।

লেখক: বিজ্ঞানলেখক ও গবেষক