চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন লিটন দাস

 

স্পোর্টস ডেস্ক : গত বছর বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ১৬ জন ক্রিকেটার ছিলেন। বেতন না বাড়ানোর সঙ্গে এবার চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যাও কমিয়ে এনেছে বিসিবি। গত বুধবার বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে চলতি বছর বিসিবির চুক্তির আওতায় থাকবেন ১৩ ক্রিকেটার। যার মধ্যে ১০ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি তিনজনের নামও দ্রুতই ঘোষণা করা হবে।

বিসিবি সভাপতি তিনজন যুক্ত করার কথা বললেও গতকাল জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত চার ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে এ বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে। বিসিবির বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চার জনের মধ্যে লিটন কুমার দাসের চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়াটা একপ্রকার নিশ্চিত। বাকি তিন জন হতে পারেন উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটার। যার মধ্যে নাজমুল হোসেন শান্ত, সাইফউদ্দিনরা থাকতে পারেন। নাজমুল হোসেন অপু, আরিফুল হকরাও বিবেচনায় রয়েছেন।

বাদ পড়া পাঁচ ক্রিকেটারের মধ্য থেকে সৌম্য সরকার-মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন। আজ-কালের মধ্যেই তালিকাটা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া সাব্বির রহমান চুক্তির আওতায় নেই।

সূত্র আরও জানায়, জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেললেই চুক্তি না থাকলেও ক্রিকেটাররা রুকি শ্রেণিতে ওই মাসের বেতন পেয়ে থাকেন। গত বছর এ-প্লাস, এ, বি, সি চার শ্রেণিতে ১২ ক্রিকেটার ছিলেন। সবশেষ ‘ডি’ শ্রেণিতে থাকা চার ক্রিকেটার রুকি গ্রেডের হিসেবেই বেতন পেতেন। ‘ডি’ শ্রেণিকেই রুকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে বিসিবি গত দুই-তিন বছর ধরে।

এবার ১২ জনের স্থলে ১০ জনকে রাখা হয়েছে শীর্ষ চার গ্রেডে। আর রুকিতে রাখা হবে চার ক্রিকেটারকে। পারফরম্যান্স আহামরি নয় বলেই পাঁচ তরুণ ক্রিকেটার চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন। এর মাধ্যমে ক্রিকেটারদেরকেও বার্তা দিতে চেয়েছে বিসিবি। চুক্তি, বোর্ডের বেতন কোনো কিছুই সহজলভ্য নয়- ক্রিকেটারদের এমন উপলব্ধি প্রয়োজন বলে মনে করেন নীতিনির্ধারকরা।

চলতি বছরের শুরু থেকেই তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স আতশী কাচের নিচে চলে এসেছে। দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট, টি- টোয়েন্টি সিরিজ ও নিদাহাস কাপে তরুণদের পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল না। রান খরার কারণেই ওপেনার সৌম্য সরকার ইতোমধ্যে দুই ফরম্যাট থেকে বাদ পড়েছেন। খেলছেন শুধু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। সাব্বিরও রানে নেই। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দোষ তো তার সঙ্গী হয়েই আছে। নিদাহাস কাপে যাচ্ছেতাই বোলিং করা পেস বোলার তাসকিন দুই ম্যাচ খেলেই একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন।

তবে লিটন দাস ছিলেন ব্যতিক্রম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ভালো করেছেন এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। মুমিনুলের সঙ্গে বড় জুটি গড়ার সঙ্গে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়েছেন। সাকিবের বদলি হিসেবে নিদাহাস কাপে গিয়েও দারুণ ব্যাটিং করেছেন। তার এনে দেয়া উড়ন্ত শুরুতে ভর করেই কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুশো রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ফর্মে থাকা লিটন তাই রুকি শ্রেণিভুক্ত হয়েই প্রথমবার বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ঠাঁই পাচ্ছেন।

সে তুলনায় মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত কিছুটা দুর্ভাগা। গত বছর টেস্ট, ওয়ানডেতে তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স ছিল। চোখের ইনজুরি কাটিয়ে বিপিএল খেলার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ভালোই করেছেন। চট্টগ্রামে ড্র নিশ্চিত করায় অবদান ছিল তার। কিন্তু পরের টেস্টে বাদ পড়েছিলেন তিনি। পরে জায়গা হয়নি নিদাহাস কাপেও।