রাজধানীতে পাখিদের জন্য হোমিও চিকিৎসা

নিউজ ডেস্ক : ছোট্ট একটি পাখি। কোন এক উঁচু গাছের মগডালে বসে আছে। সঙ্গিনীকে ডাকতে কেমন সে শিস দেয়। কোথায় তারা বাসা বাঁধবে। কেমন করে বুলেটে ছিন্ন না করে তাকে ধরা যাবে ফাঁদ পেতে। সেই সব নগ্ন-পদ নেংটি পরা ব্যাধ আর আদিবাসী মানুষই প্রথমে পাখিকে এনে দিয়েছে মানুষের নাগালে। এখন সেই পাখি খাঁচার ভেতর থেকে নাগরিক জীবনে মানুষকে তৃপ্তি দেয়। একাকীত্ব ঘোচায়।

১৯৪১ সালে পাখির রকমারি তথ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল ভারতের সালিম আলির সচিত্র দ্য বুক অব ইন্ডিয়ান বার্ডস। ওই বইটিই মূলত পাখি দেখবার, নতুন পাখি চিনবার আনন্দকে মধ্যবিত্তের আওতায় এনে দিল। আস্তে আস্তে সাধারণ শিক্ষিত মানুষের মধ্যে বাইনোকুলারে চোখ রেখে পাখি চিনবার মন তৈরি হতে থাকল এশিয়া জুড়ে।

দিন যতই যাচ্ছে পাখির প্রতি মানুষের ভালোবাসার মাত্রা ততই বেড়েছে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে পাখি পোষার শৌখিনতা সে ভালবাসারই উদাহরণ। কিন্তু ঘরে পোষা এই পাখিই অনেক পরিবারে জায়গা করে নিয়েছে আপনভাবে। তার রোগে চিন্তিত হয় পরিবারের সবাই।

বিষয়টি মাথায় রেখেই মির্জা গালিবের নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকার কয়েকজন তরুণ এগিয়ে আসে পাখির জন্য বিশেষ চিকিৎসার।যুগান্তরের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেইমির্জা গালিব জানান তাদের কার্যক্রমের বিস্তারিত কথা-

যেভাবে স্বপ্নের শুরু

২০০১ সাল থেকে পাখি পালন শুরু করেন মির্জা গালিব নামের ওই তরুণ। বার্জিকার দিয়ে পাখি পালন শুরু করেন ঢাকা কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে অনার্স-মাস্টার্স করা এ মেধাবী তরুণ। তিনি বলেন, ‘কেউ পাখি পালন শুরুর পর যখন দেখা যায় তাদের ছানা হচ্ছে, তখন মনটা অন্যরকম ফিলিংস কাজ করে। আমারও এই ফিলিংস থেকেই শুরু হলো পাখির প্রতি ভালোবাসা। এতো কালারফুল একটা জিনিস।

ভার্চুয়াল জগতে পদচারণা

বাংলাদেশে ফেসবুক প্রচলন হওয়ার পর বাংলাদেশে কিছু ফেসবুক গ্রুপ ক্রিয়েট হলো। তখন আস্তে আস্তে এর ব্যাপকতা বাড়তে থাকলো। দেখা গেল অনেকেই পাখি পালন করেন। তাদের সঙ্গে একটা পরিচয় হওয়া শুরু হয়।

পাখিদের জন্য হোমিও চিকিৎসা

গালিব বলেন, আমাদের ফ্যামিলি লাইনে মেডিসিন বিজনেস থাকার কারণে মেডিসিনের প্রতি আগ্রহ ছিল। তখন ট্রিটমেন্টটা কী করা যায় তা নিয়ে ভাবতে থাকি। তখন বাংলাদেশে পাখি ব্যবস্থাপনায় খুব ভালো কিছু ছিল না।

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে এসে আমি দেখলাম, আমাদের দেশে যে ট্রিটমেন্ট প্রচলিত, সেটি হলো অ্যালিপোথিক ভেটেরিনারি ব্যাবস্থা। তখন দেখলাম অনেক ট্রিটমেন্টেই মেডিকেল ট্রিটমেন্টে ভালো রেসপন্স করছে না। পাখি মারাই যাচ্ছে। কারণ, আমাদের জন্য যেসব ওষুধ পাচ্ছি, সেগুলো পাখির জন্য উপযুক্ত ওষুধ না। বেশিরভাগ পোল্ট্রি ভিত্তিক ওষুধ। তখন চিন্তা করলাম হোমিওপ্যাথিকের কথা। যেহেতু আমার বাবা একজন হোমিওপ্যাথিস্ট। আমার বাবার দাদাও একজন বড় হোমিওপ্যাথিস্ট ছিলেন। যার কারণে আমিও এ পদ্ধতি প্রয়োগের পরিকল্পনা করি। এক পর্যায়ে সফল হই।’

ভেটেরিনারি চিকিৎসায় যেখানে সার্জারির মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হয় সেখানে হোমিও পদ্ধতিতে অনেক পাখির জটিল রোগও সারিয়ে তুলেছেন বলে জানান তিনি।

অনলাইনে চিকিৎসা

এভিয়েরি শিল্পের উন্নয়নে সকল রকম কেজ বার্ড নিয়ে ও দেশের সফল ব্রিডারদের সাহায্য ও দিকনির্দেশনা নিয়ে পাখি প্রেমিকদের পাশে থেকে কাজ করার জন্য একটি গ্রুপও রয়েছে তাদের। গ্রুপের নাম এভিয়ান কমিউনিটি অব বাংলাদেশ (Avian Community Of Bangladesh)।

বর্তমানে ওই গ্রুপে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৬ সহস্রাধিক মেম্বার সক্রিয় রয়েছেন। তারা এভিকালচার শিল্পের উন্নয়নে কাজ করার সাথে সাথে বন্য পাখি ও অতিথি পাখি নিয়ে বিশেষ কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান মির্জা গালিব।

ইতিমধ্যে তারা সমাজকল্যাণমন্ত্রণালয় থেকে ওই ফেসবুক গ্রুপটি রেজিস্ট্রেশনও নিয়েছে।বার্ড ব্রিডাররা দেশের পরিবেশ ও আবহাওয়ায় বিশেষজ্ঞ ব্রিডারদের সহযোগিতায় এবং পরীক্ষিত আধুনিক পদ্ধতি আনুসরণের মাধ্যমে গ্রুপের মেম্বারদের বার্ড ব্রিডিং এ সহায্য করে সফল ও আরো দক্ষ করে গড়ে তোলা ও পাশাপাশি পাখির রোগ প্রতিকার ও প্রতিরোধ এ ভূমিকা রাখতে অনলাইন গ্রুপটি বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।