বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাৎ বার্ষিকী

 

নিউজ ডেস্ক : বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ’র শাহাদাৎ বার্ষিকী আগামীকাল ২০ এপ্রিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে বীরত্বের সঙ্গে লড়ে তিনি শাহাদাৎ বরণ করেছিলেন। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভুষিত করা হয়। দেশের সাত জনের ‘বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে তিনি একজন।

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের বুড়িঘাটের একটি টিলায় চির নিদ্রায় শায়িত আছেন মুক্তিযুদ্ধের ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ মুন্সি আব্দুর রউফ। শাহাদাৎ বার্ষিকীর দিনটি পালনে রাঙ্গামাটিতে নেয়া হয়েছে নানা আয়োজন। পাহাড় ঘেরা রাঙ্গামাটির চোখ ধাঁধানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ পানির মাঝে ছোট্ট একটি টিলার উপর মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি।

ফরিদপুরের জন্ম নেয়া সিংহ হৃদয়ের মানুষটি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেন। তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামে রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি পানিপথ প্রতিরোধ করার জন্য ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এক কোম্পনী সৈন্যের সঙ্গে বুড়িঘাটে দায়িত্ব পালন অবস্থায় হঠাৎ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্যাটেলিয়নের দুই কোম্পানী সৈন্য, বেশ কয়েকটি স্পীড বোট এবং দুটি লঞ্চে করে বুড়িঘাট দখলের জন্য আক্রমণ করে ও মর্টার এবং অন্যান্য ভারী অস্ত্র দিয়ে অবিরাম গোলা বর্ষণ শুরু করে।

অতর্কিত আক্রমণে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে ও এই সুযোগে কিছু পাকিস্তানি সৈন্য তীরে নেমে মুক্তিবাহিনীর অবস্থান ঘিরে ফেলে। পাকিস্তনি সৈন্যরা এলএমজির রেঞ্জের বাইরে গিয়ে লঞ্চ থেকে মর্টারে গোলা বর্ষণ করতে থাকে। হঠাৎ একটি গোলার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মুন্সী আবদুর রউফের দেহ।
স্থানীয় পাহাড়ি অধিবাসী দয়াল কৃষ্ণ চাকমা তার লাশ উদ্ধার করে নানিয়ারচরের বুড়িঘাটের চিংড়ি খাল সংলগ্ন এই টিলার উপর সমাহিত করেন। পরে বিজিবির উদ্যোগে সেই টিলায় নির্মিত হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি সৌধ। একজন বীরশ্রেষ্ঠকে সমাহিত করেও এখনো পর্যন্ত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি সৌধ দেখাশোনা করেন দয়াল কৃষ্ণ চাকমার পরিবারের সদস্যরা।

এ দিকে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন প্রথমবারের মত রাঙ্গামাটিতে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ-এর শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করছে। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ স্মৃতি সংরক্ষণে ও নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে কাজ শুরু করেছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন। ইতোমধ্যে ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা বৃত্তি চালু করেছে। বীরশ্রেষ্ঠের শাহাদাৎ বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত ৩০ মার্চ তৃতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। গত ১২ এপ্রিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড মিলনায়তনে শুক্রবার সকাল ১০টায় আলোচনা সভা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি ও পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন রাঙ্গামাটি সদর সেনা জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ রেদওয়ানুল ইসলাম ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর।

প্রধান আলোচক থাকবেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা ও পরিচালক ইয়াছিন রানা সোহেল। আমন্ত্রিত অতিথি থাকবেন জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার উত্তম খীসা ও জেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষা অফিসার মো. মফিজুল ইসলাম। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

প্রতিবছর স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জানানো হলেও তাঁর শাহাদাৎ বার্ষিকীর দিনে তেমন কোন আয়োজন হতো না। এ বছর থেকে শাহাদাৎ বার্ষিকীর দিনে ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা বৃত্তি প্রদানসহ নানা আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।