অস্ত্র ক্রয়ে মার্কিন নির্ভরতা কমছে পাকিস্তানের

 

নিউজ ডেস্ক : সামরিক প্রযুক্তি ক্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। চীনের কাছ থেকে অস্ত্র কিনে দেশটি সেই শূন্যতা পূরণ করতে যাচ্ছে বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, এ আয়োজনকে ভূ-রাজনৈতিক পাল্টা আঘাত হিসেবেও বিবেচনা করা হতে পারে। দুই হাজার শব্দে লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওবামা প্রশাসনের শেষ কয়েক মাস থেকেই এই পরিবর্তন শুরু হয়েছে। তখন পাকিস্তানের কাছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিক্রি আটকে দিয়েছিল দেশটির কংগ্রেস।

এতে করে উন্নত সামরিক প্রযুক্তির জন্য ইসলামাবাদ আর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করতে পারছে না। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ কেনার চিন্তা বাদ দিয়ে একই সক্ষমতার চীনের জেএফ-১৭ ক্রয়ে মনোযোগ দিয়েছে পাকিস্তান। এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত অস্ত্র ক্রয়ের উদ্যোগ থেকে সরে গিয়ে চীনা অস্ত্র কারখানার দিকে সরে এসেছে দেশটি।

এদিকে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে পাকিস্তানের সন্দেহ বেড়েই যাচ্ছে। তা ছাড়া ২০১১ সালে পাকিস্তানের মাটিতে আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে শুরু হয় সম্পর্কের অবনতি। লাদেনকে হত্যার পর দুই দেশের সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে দেয়া ২০০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেন।

যা দুই দেশের সম্পর্ককে তলানিতে নিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এখন আফগানিস্তানে সহায়তার অনুরোধ জানিয়ে পাক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খুব সাড়া পাচ্ছেন না। টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হ্যারিসন অ্যাকিনস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তান আরও বেশি করে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ইসলামাবাদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বদলে চীনা সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দশক থেকেই পাকিস্তান বেইজিং থেকে অস্ত্র ক্রয় করছে। ১৯৬৫ সালে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার মধ্য দিয়ে যেটি শুরু হয়েছিল। এর পর থেকে ইসলামাবাদের সঙ্গে যখনই ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সংঘাত দেখা দিয়েছে, তখনই দেশটি বেইজিং অভিমুখী হয়েছে।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করেছে চীন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে প্রতিবেশী দেশটিতে চীন ৩০টি পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম এম-১১ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করে ওয়াশিংটনকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিল।