১০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ফেরত ৫০ হাজার

 

নিউজ ডেস্ক : পানগাঁও বন্দরের কাস্টম উপ-কমিশনার সোনিয়া আকতারের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ এনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট গত ৮ এপ্রিল তারিখে আবেদন জানিয়েছেন বংশাল ব্যাটারী ব্যবসায়ী ও আমদানীকারক গ্রামীণ গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মোঃ আল আমিন।
অভিযোগে প্রকাশ মোঃ আল আমিন একজন ব্যাটারী ব্যবসায়ী ও আমদানীকারক তিনি গ্রামীণ গ্রুপের স্বত্বাধিকারীও বটে। কিছুদিন আগে তিনি পানগাঁও বন্দর দিয়ে কিছু ব্যাটারী আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার ব্যাটারীর কন্টেইনারটি পানগাঁও এসে পৌঁছালে তিনি যাবতীয আইনগত কার্যক্রম সম্পাদন শেষে কাস্টম কমিশনার মমিনুল কবিরের অনুমতি নিয়ে ব্যাংক গ্যারান্টি সম্পন্ন করে মালামাল ছাড় করার জন্য অগ্রসর হতে থাকেন। তার ফাইলটি উক্ত অফিসের কাস্টম উপ-কমিশনার সোনিয়া আকতারের টেবিলে যাবার পর তিনি মোটা অংকের টাকা ঘুষ দাবী করেন, ঘুষ না দিলে তিনি ফাইলটি ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দেন। সোনিয়ার কথা শোনে দিশেহারা হয়ে পড়েন আল আমিন, শিপিং ও পোর্ট ডেমারেজের কথা চিন্তা করে তিনি টাকা দিতে বাধ্য হন ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ফাইলটি ছেড়ে দিতে রাজী হন সোনিয়া আকতার। চুক্তি অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা দিয়ে মালামাল ছাড় করেন আল আমিন। কিন্তু পরবর্তীতে কাস্টম কমিশনার মমিনুল কবির ব্যাংক গ্যারান্টি ফেরত দিতে অনরোধ জানালে আল আমিন বাধ্য হয়ে ব্যাংক গ্যারান্টি ফেরত দেন। বলা বাহুল্য ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতেই আল আমিন সোনিয়া আকতারকে ১০ লাখ ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন কিন্তু যেহেতু কাস্টম কমিশনার মমিনুল কবির ব্যাংক গ্যারান্টি ফেরত নিয়ে গেছেন সেহেতু সোনিয়া আকতারের আর কোন কাজ থাকে না অর্থাৎ ঘুষ দেয়ার কোন কারণ থাকে না ফলে ব্যাংক গ্যারান্টি গ্রহণের বিপরীতে সোনিয়াকে প্রদত্ত ১০ লাখ টাকা ফেরত দিতে অনুরোধ করেন আল আমিন। সোনিয়া আকতার টাকা ফেরত দিতে রাজী হন এবং রাজস্ব সহকারী কর্মকর্তা এআরও আবুল কালাম আজাদ টাকা পৌঁছে দেবে বলে জানান। কিন্তু আবুল কালাম আজাদ ৫০ হাজার টাকা আল আমিনের হাতে দেন এবং বলেন বাকী টাকা পরে দেয়া হবে। আল আমিন বলেন টাকা দিলাম ১০ লাখ এখন মাত্র ৫০ হাজার নিয়ে এসেছেন, বাকী টাকা কখন পাবো? উত্তওে আজাদ বলেন – সোনিয়া ম্যাডামতো বলেছে ৬লাখ টাকা নিয়েছেন, তবে পুরো ৬লাখ ফেরত দেয়া যাবে না, ফেরত পাবেন অর্ধেক। এছাড়াও অনেক কথা হয়েছে আজাদেও সাথে। আজাদ কর্তৃক ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেয়া এবং পুরো কথোপকথনের বিষয়টি ভিডিও করা আছে। ভিডিওর একটি কপি রাজস্ব বোর্ডেও চেয়ারম্যানকেও দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সোনিয়া আকতারের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি, পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। কাস্টম কমিশনার মমিনুল কবিরের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে, যুগ্ম কাস্টম কমিশনার মুশফিক আহমেদ এবিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন এবং আবুল কারাম আজাদ ভিডিওর সত্যতা স্বীকার করলেও কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।