রাজীবও ভুল করতে পারে : সেতুমন্ত্রী

 

নিউজ ডেস্ক : রাজধানীতে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় ডান হাত হারানো রাজীব হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গতকাল মঙ্গলবার। ওই দুর্ঘটনার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,এ ঘটনায় রাজীবও ভুল করতে পারে।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর হাতিরঝিলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন,’সড়কের খারাপ-ভালো তো এর সঙ্গে জড়িত না। যারা চালাচ্ছে এবং গাড়িতে যারা আরোহী তারা এর সঙ্গে দায়ী। হতে পারে ওই ছেলেটাও (রাজীব) ভুল করতে পারে। তার দাঁড়ানোটা সঠিক নাও হতে পারে। এই ব্যপারে চালকদের সচেতন হতে হবে।’

কাদের আরও বলেন, ‘ছেলেটার (রাজীব) হাত চলে গেছে, একটা ইমপরটেন্ট কাগজে আমি দেখলাম, সড়ক ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হয়েছে। এর সঙ্গে সড়ক ব্যবস্থাপনার কী সম্পর্ক?’

এ ঘটনার জন্য দায়ী কে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন,’এ ব্যাপারে চালকদের সচেতনতা খুব জরুরি। এখানে সড়কের কোনো সম্পর্ক নেই। গাড়ি ওভারটেক করতে গিয়ে একজনের হাত গেল, এর সঙ্গে সড়কের কী সম্পর্ক?’

এ সময় উদাহরণ দিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বললাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ভিসির বাড়ি তছনছ হলো, ভিসির কী সম্পর্ক কোটার সঙ্গে? এটাও (সড়ক দুর্ঘটনা) তো ওরকম একটা কিছু। সড়ক ব্যবস্থাপনার তো এখানে পরিবহন ব্যবস্থাপনা দায়ী। আপনি সড়ক কেন লিখবেন?
রাজীবের দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নেবেন অনন্ত জলিল
রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রাজীব হোসেনের দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নিতে চান ব্যবসায়ী এবং জনপ্রিয় চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। গতকাল মঙ্গলবার রাতে জন্মদিনে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এমন ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন তিনি।

ওই পোস্টে অনন্ত জলিল লেখেন, ‘বন্ধুগন, আসসালামু আলাইকুম। আজকের দিনে আল্লাহতায়ালা তার সুন্দর ধরণী আর সুন্দর সুন্দর সৃষ্টির মাঝে আমাকে পাঠিয়েছেন, আজ আমার জন্মদিন, তাই শুকুর আলহামদুলিল্লাহ্। রাব্বুল আলআমিনের নিকট আমি কৃতজ্ঞ, এ কারণে যে এমন আনন্দের দিনে তিনি আমাকে স্বপরিবারে মক্কায় অবস্থান করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তবে মন খারাপ আরেক কারণে, ….. কিছু দিন আগে বাস দূর্ঘটনায় রাজিব নামে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী তার হাত হারিয়ে ছিলেন। এবং আজ তিনি পৃথিবী হতে বিদায় নিয়েছেন। যা আমাকে বেশ মর্মাহত করেছে। বাবা-মা হারা এই সন্তান তার ছোট দুই ভাইকে পিতা-মাতার স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছিলো। কিন্তু রাজিবের অকাল বিদায়ে তার দুই ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। তাই আমার জন্মদিনে আমি চাচ্ছি যে পরিবার হারা এই দুই সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব নিতে।’

এদিকে অনন্ত জলিলের ইচ্ছার ব্যাপারে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মৃত রাজীবের মেঝ খালা খাদিজা বেগম লিপি। তিনি জানান, এতে তাদের আপত্তি নেই। ঢাকায় ফিরে তারা অনন্ত জলিলের সঙ্গে দেখা করবেন।

রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান ও আবদুল্লাহ এবং চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল
রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান ও আবদুল্লাহ এবং চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তামিরুল মিল্লাত নামের একটি দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান (১৩) ও আবদুল্লাহ (১১)। তারা কোরআনে হাফেজ। মাদ্রাসার পাঠ চুকিয়ে হাসান সপ্তম শ্রেণিতে ও আবদুল্লাহ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

ঢাকায় যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগের একটি মেসে থাকতেন রাজীব। তার বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের দাসপাড়ায়। আগেই মা-বাবা মারা গেছেন। তাই রাজীব ঢাকায় টিউশনি করে এবং চাচা, খালাসহ সবার সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছিলেন।

গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে বিআরটিসি বাসের সঙ্গে স্বজন পরিবহনের বাস টক্কর দিতে গেলে বাস দুটির মাঝখানে পড়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের। সরকারি তিতুমীর কলেজের এ ছাত্রকে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরদিন ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সরকারের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। তবে সোমবার মাঝরাতে সবাই কাঁদিয়ে রাজীব চলে যান না ফেরার দেশে।