বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিউজ ডেস্ক: জেলার সদোর উপজেলায় আজ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। সকাল সারে ১১টায় উপজেলা সদরের আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপি গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা গ্রন্থাগার ও জাদুঘরে আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল ফাউন্ডেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মোস্তফা কামাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট মো: আব্দুল হালিম। বক্তব্য দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভোলা প্রেসক্লাব আহবায়ক মো. আবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা সেলিম জমাদ্দার, স্থানীয় দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক মো. শওকত হোসেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. বশির আহমেদ, আলীনগর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির কামাল ও বীরশ্রেষ্ঠ’র ভাই’র ছেলে মো. সেলিমউদ্দিন।

আলোচনা সভায় বক্তরা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে অসামান্য ত্যাগের ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। নিজের জীবন দিয়ে সেদিন তিনি সঙ্গীদের প্রান বাঁচিয়েছেন। স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে আত্বত্যাগের জন্য ৭জনকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধীতে ভুষিত করেন। তার মধ্যে আমাদের মোস্তফা কামাল অন্যতম।

তারা আরো বলেন, বিএনপি-জোট সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছিল। আর বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর সঠিক ইতিহাস সবার সামনে তুলে ধরেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করেছে। আজকে সর্বক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের। তাই নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ ও বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ইতিহাস জানার জন্য আহবান জানান বক্তারা।

পরে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের রুহের শান্তি কামনায় দোয়া মনোজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মো. আব্দুল লতিফ। এছাড়া অতিথিবৃন্দ মোস্তফা কামালের মাতা মালেকা বেগমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। তারা তারা শারিরিক ও পারিবারিক খোঁজ-খববর নেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আখাউড়ায় দরুইন গ্রামে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শাহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল। দরুইনের মাটিতে সমাহিত করা হয় জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে।