প্রবল ঝড়ে পশ্চিমবঙ্গে নিহত ১৩

 

নিউজ ডেস্ক : রপর দু’টি বৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। প্রথমটির গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৪ কিলোমিটার। পরেরটির ঘণ্টায় ৯৮ কিলোমিটার। এ ঝড়ে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়ায় মোট ১৩ জন নিহত হয়েছেন। ব্যাহত হয়েছে ট্রেন চলাচল। বিভিন্ন স্থানে ভোররাত পর্যন্ত ছিল না বিদ্যুৎ। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

মঙ্গলবার রাত ৭টা ৪২ মিনিটে প্রথম কালবৈশাখী আসে। দ্বিতীয়টি ৭টা ৫৫ মিনিটে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তা গণেশকুমার দাস জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ঝড়টির সর্বোচ্চ গতিবেগ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র এক মিনিট।

কলকাতা ও সল্টলেকের বিভিন্ন রাস্তায় অন্তত দেড়শো গাছ ও গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে ঝড়ে। বেহালা পর্ণশ্রীর ডায়মন্ড হারবার রোডে গাছ পড়ে মৃত্যু হয় ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির। লেনিন সরণিতে অটোর উপরে গাছ পড়ে মারা যান অটোচালক চালক এ এক যাত্রী। আনন্দপুরের পশ্চিম চৌবাগায় বাড়ি ভেঙে মৃত্যু হয়েছে অপর এক ব্যক্তির। কলাকার স্ট্রিটে বহুতলের দেওয়ালের একাংশ মাথায় পড়ে মারা যান আরেক জন।

ঝড়ে হাওড়ার বেলুড়েই মৃত্যু হয়েছে চার জনের। গিরিশ ঘোষ রোডে গাছ পড়ে মারা যায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। এছাড়া ভেঙে পড়া গাছের সঙ্গে বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে তারাচাঁদ গাঙ্গুলি স্ট্রিটে ৪৫ বছরের এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। ওই সাইকেলে থাকা এক তরুণী এবং এক কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বেলুড়ের গাঙ্গুলি স্ট্রিটেও তার ছিঁড়ে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের।

আন্দুল রোডে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বাইক আরোহীর মৃত্যু হয়। ডুমুরজলায় গাছ পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক তরুণীর। এছাড়া বজ্রাঘাতে বাঁকুড়ার ইন্দাসের তেঁতুলমুড়িতে এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হয়েছেন।

ঝড়ে হাওড়া স্টেশনের ১৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো একটি ট্রেনের ছাদে ভেঙে পড়ে বঙ্কিম সেতুর রেলিংয়ের প্রায় ৩০ ফুট লম্বা একটি অংশ। পূর্ব রেলের হাওড়া-বর্ধমান কর্ড ও মেইন লাইন ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব রেলে ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল। লিলুয়ায় গ্রিডের সংযোগ বিকল হয়।

কলকাতা বিমানবন্দরে ডেকানের একটি বাতিল বিমান দাঁড়িয়ে ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার হ্যাঙার থেকে ২০ ফুট দূরে। ঝড়ের দাপটে বিমানের মুখ ঘুরে গিয়ে সেটি একটি ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা মারে। অন্য একটি ছোট ‘সেসনা’ বিমানেরও মুখ ঘুরে যায়। নামতে না পেরে কলকাতার আকাশে চক্কর মারতে থাকে ১০টি বিমান।

রাত ৮টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকে বিধাননগর হাসপাতাল। সল্টলেকের ইসি মার্কেটের কাছে গাছ-সহ একটি মন্দির ও দমদমের গোপাল চন্দ্র বোস লেনে একটি খালি বাড়ি ভেঙে পড়ে।

নবান্নের উত্তর গেটের কাছে পুলিশ চৌকিটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছুক্ষণের জন্য সেখানকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য ঝড়ের আগেই নবান্ন থেকে বেরিয়ে যান।