জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির প্রস্তুতি আ.লীগে

 

নিউজ ডেস্ক : দলীয় ঘোষণাপত্রের আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার তৈরি করবে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে আসার পর এ কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে, আনুষ্ঠানিকভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দলটি। অনেকটা আকস্মিকভাবেই দলের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৩৬ সদস্যের এ কমিটির চেয়ারম্যান। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমামকে কো-চেয়ারম্যান ও দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কার্যনির্বাহী সংসদের সব কর্মকর্তা-সদস্য এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা এই কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার সৌদি আরব সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ কমিটি অনুমোদন করেছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে আসার পর আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দলের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু করা হবে। ইশতেহার তৈরির বেলায় দলের ঘোষণাপত্রকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ইশতেহারে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরও মতামত থাকবে।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটে জনসভার মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এরই মধ্যে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ ছাড়া অন্য ছয় বিভাগে জনসভা করেছেন। বেশ কয়েকটি জেলায়ও জনসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী পুরোমাত্রায় সক্রিয় হয়েছেন। বর্তমানে দলের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম ভারত সফরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরে আসার পর দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলোচনার পর নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে।

পরে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার পর তৈরি করা হবে নির্বাচনী মহাপরিকল্পনা। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য দেশজুড়ে ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করার উদ্যোগ রয়েছে। পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি নিয়ে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

এ পরিকল্পনার আওতায় কমপক্ষে ১১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ কর্মীকে পোলিং এজেন্ট করা হবে বলে নেতারা জানিয়েছেন। তাদের হিসাবে আগামী নির্বাচনে কমবেশি ৪৬ হাজার ৫০০টি ভোটকেন্দ্র হতে পারে। একেকটি ভোটকেন্দ্রে গড়পড়তা পাঁচটি করে বুথ করা হলে মোট বুথের সংখ্যা হতে পারে দুই লাখ ৩২ হাজার ৫০০টি। তবে এ সংখ্যার চেয়ে কমপক্ষে পাঁচ গুণ বেশি পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। আগামী রমজানের পর থেকে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তুতি রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা শেখার পাশাপাশি সঠিকভাবে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি শেখানো হবে।

তিনশ’ সংসদীয় আসনের আওতাধীন আট বিভাগের পাশাপাশি ৬৪টি প্রশাসনিক জেলা ও ৪৯১টি উপজেলায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। প্রথমে বিভাগীয় শহরে এবং পরে শুরু হবে জেলা ও উপজেলাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিটি সংসদীয় আসনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও তাদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হবে বলে কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন। তারা বলেছেন, প্রশিক্ষিত নেতাকর্মীরা বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। অতীতে আন্দোলনের নামে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ধ্বংসাত্মক চিত্রও তুলে ধরবেন পোলিং এজেন্টরা। সেইসঙ্গে তারা আগামী নির্বাচনের আগে রাজপথে বিরোধী দলের আন্দোলনের নামে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেও সতর্ক থাকবেন।

এদিকে, দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করা হলেও তা জানা ছিল না অনেক শীর্ষ নেতার। সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে এ খবর জানাজানি হলে নেতাদের অনেকেই রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।