জাতিসংঘের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশের বিজয়

নিউজ ডেস্ক: জাতিসংঘের ইকোসক চেম্বারে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইকোসক) এর সহযোগী অঙ্গসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ইকোসকের ৫৪টি সদস্য রাষ্ট্র ভোটে অংশগ্রহণ করে। ইকোসকের বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গসমূহের এই নির্বাচনে বাংলাদেশ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং নির্বাচিত হয়।

যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়েছে তা হলো, ১) কমিশন অন দ্যা স্ট্যাটাস অব উইমেন (সিএসডব্লিউ) এর ১১ সদস্যের নির্বাচন। মেয়াদ ৪ বছর (২০১৯-২০২২)। ফলাফল: এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া নির্বাচিত।
২) ইউনিসেফের তহবিল পরিচালনা পরিষদের ১৪ সদস্যের নির্বাচন। মেয়াদ ৩ বছর (২০১৯-২০২১)। ফলাফল: এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ, মঙ্গোলিয়া ও পাকিস্তান নির্বাচিত।
৩) ইউএন উইমেনের পরিচালনা পরিষদের ১৭ সদস্যের নির্বাচন। মেয়াদ ৩ বছর (২০১৯-২০২১)। ফলাফল: এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ, ভারত, মঙ্গোলিয়া, নেপাল ও সৌদিআরব নির্বাচিত।

ইকোসকের উপরোক্ত যে ৩টি সহযোগী অঙ্গে বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়েছে তা আমাদের নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের অবদান, অব্যাহত সাফল্য ও আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতির কারণে তাৎপর্যপূর্ণ এই নির্বাচনগুলোতে বাংলাদেশ জয়ী হতে পেরেছে। সিএসডব্লিউ-এর বর্তমান সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আরও ৪ বছরের জন্য পুন:নির্বাচিত হলো।

এর ফলে নারীর অধিকার সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহনকারী এই কমিশনে বাংলাদেশ আগামী বছরগুলোতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরে সিএসডব্লিউ-এর ৬২তম অধিবেশনে বাংলাদেশ ব্যুরোর ‘ভাইস চেয়ার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।

এছাড়া ইউনিসেফ এবং ইউএন উইমেনের পরিচালনা পরিষদের সদস্য হওয়াতে বাংলাদেশ আগামী তিন বছর সক্রিয়ভাবে সংস্থা দুটির কার্যাবলী, অর্থ সংস্থান ও এর যথাযথ ব্যবহারে ভূমিকা রাখতে পারবে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশসমূহের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ‘এজেন্ডা ২০৩০’ এর বাস্তবায়নেও সংস্থা দুটিকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে।

উপরোক্ত ৩টি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অব্যাহত কূটনৈতিক অগ্রযাত্রার সাফল্য প্রমাণ করে। এই নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হলো।