সুন্দরবনের পশুর চ্যানেলে কয়লাবাহী কার্গোডুবি

নিউজ ডেস্ক: সুন্দরবনের ভেতরে পশুর চ্যানেলে ৭৭৫ টন কয়লা নিয়ে একটি কার্গো ডুবে গেছে। মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল দূরে হারবারিয়া এলাকায় শনিবার রাতে ‘এমভি বিলাস’ নামে কয়লাবাহী কার্গো জাহাজটি ডুবে যায়। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাহারা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. লালন হাওলাদার জানান, শুক্রবার লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ অবজারভেটর ইন্দোনেশিয়ার একটি বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরের হারবারিয়া এলাকায় আসে। জাহাজটি থেকে ৭৭৫ টন কয়লা নিয়ে যশোরের নয়াপাড়ায় যাচ্ছিল ‘এমভি বিলাস’। শনিবার রাতে জাহাজটি হারবারিয়ার ৫ ও ৬ নম্বর বয়ার মাঝামাঝি পৌঁছলে চরে আটকে যায়। পরে ভাটা শুরু হলে কার্গো জাহাজটি একপাশে কাত হয়ে ডুবে যায়।

তিনি বলেন, কার্গোটিতে যে কয়লা রয়েছে তা কোথাও ভেসে যায়নি, কার্গোতেই রয়েছে। সুতরাং এতে পরিবেশের ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই।

দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানান মোংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার মো. ওলিউল্লাহ। তিনি বলেন, জাহাজটিতে থাকা সাত নাবিক সাঁতরে কিনারায় উঠে যান। কয়লাবাহী কার্গোটি সাহায্য চাইলে এমভি শিবসা সেখানে পৌঁছে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করে। রাত ৩টার দিকে জোয়ারের পানির তোড়ে কয়লা বোঝাই লাইটার ভ্যাসেলটি কাত হয়ে ডুবে যায়। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কীভাবে এটি উদ্ধার করা যায় সে চেষ্টা চলছে।

কয়লাবাহী এ কার্গোডুবির ঘটনায় সুন্দরবনের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হবে, তা নিরূপণে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বন বিভাগ। গতকাল দুপুর থেকেই এ কমিটি সরেজমিন তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

এদিকে সুন্দরবনে কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজডুবির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা। সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পশুর চ্যানেলে কয়লাবোঝাই জাহাজডুবিতে সুন্দরবনের উদ্ভিদের শ্বাসমূলসহ জীববৈচিত্র্য ও জলজ প্রাণীর ক্ষয়ক্ষতি হবে। কারণ ইটভাটা ও সিরামিক কারখানাগুলোয় ব্যবহারের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত কয়লা সাধারণত নিম্নমানের হয়ে থাকে। এ কয়লায় সালফারের পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় এটি সুন্দরবনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি এক হাজার টন কয়লা নিয়ে লাইটারেজ জাহাজ এমভি আইচগাতি ডুবে যায়। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ শেলা নদীর ধানসাগর এলাকায় ১ হাজার ২৩৫ টন কয়লা নিয়ে ডুবে যায় কার্গো জাহাজ এমভি জাবালে নূর। ২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর ৫১০ টন কয়লা নিয়ে পশুর নদীর চিলা এলাকায় নবনির্মিত খাদ্যগুদামের (সাইলো) কাছে ডুবে যায় কার্গো জাহাজ এমভি জিয়ারাজ। একই বছর পশুর নদীর হারবারিয়া এলাকায় জিপসাম নিয়ে ডুবে গিয়েছিল এমভি সি হর্স।