ট্রাম্প ‘নৈতিকভাবে’ প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য: কোমি

নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সাবেক প্রধান জেমস কোমি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘নৈতিকভাবে’ প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন, কারণ তিনি নারীদের ‘মাংসের টুকরো’ বলে মনে করেন।

টেলিভিশনে দেওয়ার এক সাক্ষাৎকারে কোমি এমন মন্তব্য করেন বলে সোমবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত বছর বরখাস্ত হওয়ার পর এই প্রথম টেলিভিশনে কোনো সাক্ষাৎকার দিলেন এফবিআইয়ের সাবেক এই প্রধান।

এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেমস কোমি বলেন, ‘ট্রাম্প অব্যাহতভাবে মিথ্যা বলে চলেছেন এবং হয়তো বিচারের কাজেও বাধা তৈরি করছেন।’

তিনি বলেন, ‘তিনি [ডোনাল্ড ট্রাম্প] শারীরিকভাবে অযোগ্য বলে আমি মনে করি না। আমি মনে করি, নৈতিকভাবে তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন।’

এ প্রসঙ্গে জেমস কোমি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই সম্মান অর্জন করতে হবে এবং যে ভিত্তিগুলোর ওপর দেশ গঠিত হয়েছে, তার প্রতি মূল্যবোধ থাকতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সত্য বলতে হবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট সেটা করতে পারছেন না।’

জেমস কোমির এই সাক্ষাৎকার প্রচারের কয়েক ঘণ্টা পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির মাধ্যমে একটি বিবৃতি দেয়, যেখানে বলা হয়েছে, নিজের নতুন বইয়ের প্রচারণা বাড়াতেই কোমির এই সাক্ষাৎকার, যেখানে তিনি প্রমাণ করেছেন, তার সত্যিকারের আনুগত্য আসলে তার নিজের প্রতি।

জেমস কোমির আত্মজীবনীমূলক নতুন বইয়ের নাম ‘এ হাইয়ার লয়্যালটি : ট্রুথ, লাইজ অ্যান্ড লিডারশিপ’, যেখানে তার দায়িত্ব পালনের সময়কার নানা ঘটনার বর্ণনা রয়েছে।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে এফবিআই পরিচালক থাকার সময় কংগ্রেসে একটি চিঠি পাঠান জেমস কোমি, যেখানে বলা হয়েছিল— হিলারি ক্লিনটনের ইমেইলের বিষয়ে পুনরায় তদন্ত শুরু করছে এফবিআই।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ নিয়ে ২০১৭ সালের মার্চে তদন্ত শুরু করে এফবিআই। ওই ঘটনার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে জড়িত নয় বলে বিবৃতি দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেমস কোমির ওপর চাপ তৈরি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে একই বছরের মে মাসে তাকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প।