বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন হলো বাংলা নববর্ষ- ১৪২৫

বাগেরহাট প্রতিনিধি: আজ শনিবার পহেলা বৈশাখ! ৪৩৬ বছরের ঐতিহ্য অনুযায়ী বাংলা বছরের প্রথম দিন। বিশ্বের সকল বাঙালির মুখে মুখে এই শব্দ দু’টি।

অতীতের হতাশা-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ করার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিবছরের মতোই এ দিনটি উদযাপন করছে বাংলাদেশ। শনিবার ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রা শুরু করেছে নতুন বঙ্গাব্দ ১৪২৫। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নতুন বছরের মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে সব বয়স ও শেণী-পাশার মানুষ।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় বাগেরহাটে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। এ সময় বাঙালির বিভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের হওয়া শোভাযাত্রায় অংশ নেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হ্যাপি বড়াল, বাগেরহাটের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ কামরুজ্জামান টুকু, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস, বাগেরহাটসিভিল সার্জন ডাঃ অরুন চন্দ্র মন্ডলপুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায়,বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান. বাগেরহাটের সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান মুজিবর রহমান, প্রমুখ, শিশু একাডেমী শিশুদের নিয়ে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। আপর দিকে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, রুই-পান্তা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা।সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

এসময় গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পালকি, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি এবং বাংলার বাঘসহ বিভিন্ন মুখোশ পড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিশু-কিশোররা বাদ্য-বাজনাসহ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া জেলা শহর ও প্রতিটি উপজেলাতে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শোভাযাত্রায় বাঙালির সংস্কৃতির পরিচয়বাহী, ঘোড়া, হাতি, মাছ, পালকি, ঘোড়ার গাড়ি, মোরগের লড়াই, পেঁচা ও নৌকা প্রতিকৃতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। সাবেক সংসদ বেগম হাবিবুন নাহান, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম সহ উপজেলা প্রসাশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিা প্রতিষ্ঠানের শিক-শিার্থী, বিপুল সংখ্যক শিশু-কিশোর অংশ নেন। অপরদিকে উপজেলা মাঠে মঞ্চ বানিয়ে দিনবদলের মঞ্চ বলে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন সকাল থেকেই গানে গানে নববর্ষের জয়গান শুরু করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে তিন দিনব্যাপী।

গ্রাম থেকে শহর, নগর থেকে বন্দর সব জায়গায় আজ দোলা দিয়েছে বৈশাখ। মুড়ি মুড়কি, মন্ডা মিঠাইয়ের সঙ্গে নাচে-গানে, ঢাকে-ঢোলে, শোভাযাত্রায় পুরো জাতি বরণ করেছে নতুন বছরকে। বাংলা নববর্ষের উৎসবের কথা এক শিরোনামহীন কবিতায় জীবনের শেষশয্যায়ও লিখে গিয়েছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। তিনি লিখেছিলেন ‘আর কিছু নয়/একটুখানি/ওতেই আছে সব/একটি বাঁশির সুরে/আমার বাংলার উৎসব/গ্রামের ঘরে ঢুলি যাচ্ছে/বের করছে ঢোল/ঢোলের বুকে বাড়ি পড়ছে/চক্ষু মেলে তোল/এই তো আমার দেশের বাড়ি/এই তো উৎসব।

শনিবার বেলা সাড়ে ৮টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। উপজেলা চেয়ারম্যন অ্যাড. শাহ্-ই-আলম বাচ্চু, নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, সহকারি কমিশনার(ভূমি) মো. আলমগীর হোসাইন, থানার ওসি(তদন্ত) মো. আলমগীর কবির এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এসিলাহা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ হতে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয়েছে বৈশাখী মেলার। পৌরসভা মেয়র ও বিদ্যালয়ের সভাপতি এসএম মনিরুল হক তালুকদার আজ বেলা ৯টায় দুদিনব্যাপি এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।

জেলা পরিষদ সদস্য আফরোজা আক্তার লিনা, ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা ছাবুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আজমীন নাহার, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, প্রধান শিক্ষক মো. আবু সালেহ, ফায়ার সার্ভিস, এসিলাহা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, কেজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লতিফিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, আবুহুরায়রাহ্ আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা, আব্দুল আজিজ মোমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ পৌরসভার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসব কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করে। বাগেরহাট জেলা কারাগার ও শিশু পরিবার-৩ ঐতিহ্যবাহী বাঙ্গালী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং জেলা কয়েদিদের তৈরি বিভিন্ন দ্রব্যাদির প্রদর্শনী হয়। বাগেরহাটজেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ শিশুদের রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।মোল্লাহাটে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, পান্তা-রুই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভূমি হালখাতার আয়োজন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ৮টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি মোল্লাহাট সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদণি করে উপজেলা উপজেলা চত্ত্বরে এসে শেষ হয়।

 

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার বেলা সাড়ে ৭টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। এতে উপজেলা চেয়ারম্যন এস.এম.মাহফুজুর রহমান, নির্বাহী অফিসার তাসমিন ফারহানা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যন হাজরা ওবায়দুর রেজা সেলিম, নাজমা সরোয়ার, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল কবির. উপজেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো.সাইফুল ইসলাম এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে উপজেলা যুবলীগের পক্ষথেকে র‌্যালী ও পান্তার অয়োজন করা হয়। এছাড়া কচুয়া ডিগ্রী কলেজ সহ উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পৃথক ভাবে নববর্ষ পালন করে।

পরে উপজেলা শিশু নিকেতনের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপিত হয়।

প্রিন্স, ঢাকা