উস্কানিদাতারা একটি লাশ চেয়েছিল: ইনু

নিউজ ডেস্ক: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলন ভিন্ন খাতে নিতে উস্কানিদাতারা একটি লাশ চেয়েছিল। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে কতিপয় লোক উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাশকতা ঘটিয়েছে। এই নাশকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পর্ক নেই। উদ্দেশ্যে সফল হতে না পেরে তারা এখন দুঃখ প্রকাশ করছে। তবে সরকার কোনো শ্রেণি-পেশার, ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন গায়ের জোরে সমাধান করতে চায় না।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে নানা ইস্যুতে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে রাজনৈতিক কিছু নেতানেত্রী বাইরে থেকে উস্কানি দেন। অতীতে বিডিআর বিদ্রোহের সময় বিএনপি ও খালেদা জিয়া প্রকাশ্যে উস্কানি দিয়েছেন। হেফাজত ও জঙ্গি তাণ্ডবের সময়ও প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। আগুন সন্ত্রাসের সময়ও প্রকাশ্যে খালেদা জিয়া বিবৃতি দিয়ে উস্কানি দিয়েছেন। আবারও উস্কানি দিয়ে তারা একটা লাশ চেয়েছিল, পায়নি। এজন্য তাদের দুঃখ।

তথ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করে বলেন, কোনো গুজব কিংবা উস্কানিতে কান না দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন ছেড়ে ক্লাসে ফিরে যাবে। শিক্ষার্থীরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবে।

তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে ছাত্রছাত্রীদের আহত হওয়া, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধে জনদুর্ভোগ অনাকাঙ্ক্ষিত দুঃখজনক। এসব ঘটনায় তিনি ব্যথিত, উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত।

বর্তমান সরকার কোটা পদ্ধতি চালু করেনি। বরং শেখ হাসিনার সরকারই কোটা পদ্ধতি প্রয়োগের বিষয়টি সুস্পষ্ট ও যৌক্তিকীকরণের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মেধা কোটা ৪৫ শতাংশ হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপেই বাস্তবে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তাই কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। মুক্তিযোদ্ধাসহ সব কোটার প্রার্থীদেরই সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। নারী, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধাসহ অনগ্রসর, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে টেনে তোলার জন্য কোটা প্রথা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।