সিরিয়া নিয়ে মুখোমুখি দুই পরাশক্তি

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

অবশেষে সিরিয়া নিয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই পরাশক্তি। স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো রুশ-মার্কিন উত্তেজনা চরমে উঠেছে। সোভিয়েত সমাজব্যবস্থার পতনের পর একক পরাশক্তি কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছিল বিশ্ব। ঘোষিত হয়েছিল নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার। নতুন বিশ্বব্যবস্থা। পরাশক্তি হিসেবে সাময়িকভাবে পর্যুদস্ত হলেও শিগগিরই নিজের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্ব-মূর্তিতে আবির্ভূত হয় রাশিয়া। এই রাশিয়া সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নয়। এটি জার সাম্রাজ্যও নয়। গণতন্ত্র ও সোভিয়েততন্ত্রের মিশ্রণ—পুতিনতন্ত্র। গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্রের এই স্বরূপ নিয়ে সরব আলোচনা চলছে।

এই সেদিন চতুর্থবারের মতো তিনি একরকম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে পুতিনতন্ত্রের নজির স্থাপন করেছেন। অপরদিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বৈরতন্ত্রের দাঁত দেখাচ্ছেন। বিশ্ব রাজনীতির দিকপালরা বলছেন স্বভাব-চরিত্রে বিষয় বৈশিষ্ট্যে দুজনই একই জিনিস। লোকেরা বলে জাতে মাতাল তালে ঠিক। মার্কিন নির্বাচনে এবং প্রাথমিক সময়ে ওই দুজনের গলায় গলায় দোস্তি লক্ষ করা গেছে। এটি ছিল দুই পরাশক্তির গতানুগতিক দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে একটি নিপাতনে সিদ্ধ ঘটনা। পুতিন চাইছিলেন মার্কিন নেতৃত্বের গতানুগতিকতায় পরিবর্তন। তা হয়েছে। কিন্তু বিপাকে পড়েছেন ট্রাম্প। তার নির্বাচনে গোপন রুশ সহযোগিতার অভিযোগে তদন্ত এখনো চলছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কপালে দুঃখ আছে। এই খাতির মহব্বতের মাঝেও দোস্ত-দুশমনি আছে। মার্কিন পরাশক্তির পরাজয় কিংবা অহমে আঘাত হানতে দিতে চান না ট্রাম্প। সিরিয়ায় দৃশ্যত মার্কিন নীতির পরাজয়ের জন্য ট্রাম্প দায়ী করেছেন ওবামা-হিলারিকে। কিন্তু যখন সিরীয় সরকারের মধ্যে আরেকবার রাসায়নিক হামলার অভিযোগ উঠেছিল ট্রাম্প মার্কিন বাহিনীকে সরকারি বিমান ঘাঁটিতে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এখনকার হামলাটিও সেই হামলার অনুরূপ।

সিরিয়ার পূর্ব গৌতার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দুমায় সর্বশেষ রাসায়নিক হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়েছেন ট্রাম্প। এটা যতটা না মানবিক তার চেয়েও অধিক সিরিয়ায় রুশ কর্তৃত্বের নিরঙ্কুশ অবস্থানে। সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। হালে পাত্তা পাচ্ছেন না তারা। সর্বশেষ দৃশ্য ও অদৃশ্য সমঝোতা অনুযায়ী রুশরা মার্কিনিদের কোনো প্রীতি প্রদর্শন করছে না। তাই ট্রাম্পের মাথা গরম। সিরিয়ায় ভিয়েতনামের মতো সসম্মানে পশ্চাদপসরণও হয়তো কপালে জুটছে না। ট্রাম্পের গর্জন নিষ্ফল নয়। রাসায়নিক হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা বিশ্ব। এগিয়ে এসেছে মার্কিন মিত্ররা। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা এ ঘটনার জন্য সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও রাশিয়াকে দায়ী করে এক কড়া বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তারা বলেছেন, তাদের শিক্ষা দেওয়া উচিত। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি পরিবেশিত খবরে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের কথা ভাবছেন। তবে এধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে চীন।

সিরিয়া ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শেষ খবর পাওয়া অবধি বৈঠকরত রয়েছে। এখানে মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। দুমায় বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগে প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে খসড়া প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর বিরোধিতা করে রাশিয়া। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিক্কি হ্যালি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদ এ ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ না নিলেও ওয়াশিংটন হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত’। তিনি বলেন— নিরাপত্তা পরিষদ তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তারা সিরিয়ার লোকজনকে রক্ষা করতে পারেনি।

এর জবাবে জাতিসংঘে রাশিয়ার দূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, এমন হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে। তবে এদিকে তাদের অন্যায় রাসায়নিক যুদ্ধকে হজম করার জন্য খোদ সিরিয়া সরকার জাতিসংঘের কাছে তদন্ত দল পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে। আর নরম হয়ে আসছে রুশ টোন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গরম গরম কথা বললেও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ১০ এপ্রিল বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, মস্কো হামলার অভিযোগ তদন্ত করে দেখার জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব দিবে। সিরিয়া প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো সত্যি সত্যি কিছু করতে চাচ্ছেন।

তিনি তার মন্ত্রী ও শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বৈঠক করছেন। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগের অনেক সুযোগ আমাদের আছে। তবে কী পদক্ষেপ আমরা নেব, তা শিগগিরই জানিয়ে দেয়া হবে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, সিরিয়ার পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার পূর্বনির্ধারিত লাতিন আমেরিকা সফর বাতিল করেছেন। ট্রাম্পের বদলে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স পেরুর রাজধানী লিমায় অনুষ্ঠিতব্য সামিট অব দ্যা আমেরিকাস-এ যোগদান করবেন। রাসায়নিক হামলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কঠিন অবস্থানের প্রতি গোটা বিশ্বের নৈতিক সমর্থন লক্ষ করা যাচ্ছে। ফ্রান্স বলেছে, সিরিয়ায় ওই হামলায় আসাদ সরকার জড়িত—এমন প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া পম্পেওর সঙ্গে কথা বলেছেন। ফরাসি সরকারের মুখপাত্র বেনজামিন বলেন, সীমা লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বাসভবন এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। এদিকে ট্রাম্প সামরিক শক্তি প্রয়োগের ঘোষণা দেয়ায় নিয়মিত ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং বলেছেন, তার দেশ শক্তি প্রয়োগ বা শক্তি প্রয়োগের হুমকির বিরোধিতা করে। তিনি আরো বলেন যে, বিস্তারিত, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের আগে ধারণা থেকে কোনো সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়। দুমায় হামলার পর তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর জন্য বাশার আল আসাদের সরকারকে দায়ী করেছিল। বাশারের সমর্থনকারী হিসেবে রাশিয়ার প্রতি তাদের ইঙ্গিত ছিল। ইতোমধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়েফ এরদোয়ান রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বলে পার্লামেন্টে দলীয় নেতাদের অবহিত করেন। তিনি আরো বলেন যে, বেসামরিক লোকদের হত্যার পেছনে যারা জড়িত তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। রাসায়নিক হামলাবিরোধী একটি সংগঠন বলেছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে তারা।

পুরো তদন্তে আরো সময় লাগবে। এ ধরনের হুমকি পাল্টা হুমকির মাঝে ৯ এপ্রিল সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে সিরীয় সরকারের মিত্র ইরানের সৈন্যসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। ব্রিটেনভিত্তিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি অব হিউম্যান রাইটস এ খবর নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, টিফোর বিমানবন্দরে ওই হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য কারা দায়ী তা পরিষ্কার হয়নি। তবে এজন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে সিরিয়া ও তার মিত্র রাশিয়া। অবরুদ্ধ দুমা শহরের কাছাকাছি এই বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়। এই শহরে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের হামলায় অসংখ্য লোক নিহত হওয়া নিয়ে যখন চাপের মধ্যে সিরিয়া সরকার তখনই এ হামলার ঘটনা ঘটলো। সিরীয় সেনাবাহিনী হামলার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে। তবে ইসরাইল কোনো ধরনের মন্তব্য করেনি। রুশ বাহিনী জানায়— লেবাননের আকাশসীমা থেকে দুটি ইসরাইলি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আটটির মধ্যে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে বলে দাবি করে। এই অভিযোগের ব্যাপারে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। লেবাননে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় যে, একটি বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র অনেক নিচু হয়ে সিরিয়ার দিকে ছুটে যাচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ইরানি নাগরিক অথবা ইরান সমর্থিত বাহিনীর সদস্য। যেখানে রাসায়নিক হামলা চালানো হয় সেটি দামেস্ক সংলগ্ন সর্বশেষ বিদ্রোহী ঘাঁটি পূর্ব গৌতা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয় ৬ এপ্রিল রাত থেকে ৭ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত রাসায়নিক গ্যাস হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে। বাশার বাহিনীর বিষাক্ত সারিন রাসায়নিক গ্যাস হামলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘হোয়াইট হেলমেট’। সিরিয়া অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেখানে সিরীয় সরকারের বিমান ও প্রতিরক্ষা বিভাগ কাজ করছে।

তাইয়াস নামের ওই বিমান ঘাঁটি নতুন শহর হোম্স ও প্রাচীন শহর পালমিরার মাঝামাঝিতে অবস্থিত। ঘাঁটিটি মূলত রুশ বাহিনী ব্যবহার করে বলে বার্তা সংস্থার খবরে জানা গেছে। তবে হামলায় তাদের কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা বলছেন বিমান ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক রুশ সেনা মোতায়েন রয়েছে। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলা চালাতে এখান থেকেই বিমান উড়ে যায়। প্রথমদিকে এ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর সে অভিযোগ অস্বীকার করে। পেন্টাগন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এ সময়ে সিরিয়ায় কোনো বিমান হামলা চালায়নি। এই অস্বীকৃতির পর এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ইসরাইলই মূল হামলাকারী। ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বছরখানেক আগে এ ধরনের একটি হামলা চালিয়েছে।

লক্ষণীয় বিষয় যে, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ইসরাইল কোনো পক্ষের অংশীদার নয়। ভ্রাতৃঘাতী সাত বছরের এই গৃহযুদ্ধে ইসরাইল মাঝে-মধ্যেই তাদের প্রকৃত শত্রু সিরিয়া ও ইরানের ক্ষতি করার কোনো সুযোগ হেলায় হারায়নি। চলতি বছরের প্রথমদিকে সিরিয়ার লক্ষ্যস্থলগুলোতে ইসরাইল বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল। গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির সেনা-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে অতীতেও ইসরাইলকে হামলা চালাতে দেখা গেছে। এছাড়াও বাশার আল আসাদ সরকারের পক্ষের ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ঘাঁটি ও বহরেও হামলা করেছিল ইসরাইল।

প্রকৃতপক্ষে সিরিয়া একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরব বসন্তের পর যে প্রত্যাশা নিয়ে সিরীয় জনগণ গণতন্ত্র অর্জনের আন্দোলনের সূচনা করেছিল আজ তা বিষবৃক্ষরূপে তাদের জীবনে বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন সরকার রাজনৈতিক উপায়ে জনগণের দাবির মোকাবেলা না করে অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগ করে। এর ব্যাপকতায় ব্যথিত হয়ে সেনাবাহিনীর একাংশ স্বপক্ষ ত্যাগ করে। শুরু হয় পক্ষ-বিপক্ষের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। বিরোধী শক্তি যখন জয়ের প্রান্তঃসীমায় উপনীত তখন বাশারের মিত্র মস্কোর পুতিনরা জয়যুদ্ধকে পরাজয়ে রূপান্তর করে। এখন তথাকথিত গণতন্ত্রের প্রবক্তারা রাসায়নিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে কৃত্রিম অশ্রু বিসর্জন করছে। এ মায়াকান্না মানবতার জন্য নয়, বরং আধিপত্যের প্রতিযোগিতার। সিরীয় জনগণ সিরিয়ার মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মালিক-মোক্তার হোক। বন্ধ হোক জনগণের রক্ত নিয়ে এই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দাবা খেলা।

n লেখক :অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ,

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়