ভূয়া চিকিৎসক আটক

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লায় প্রাইভেট হসপিটাল ‘কুমিল্লা টাওয়ার মেডিকেল সেন্টার’ থেকে ভুয়া চিকিৎসক ডা. আবু ফরহাদ মাহবুব (২৮)কে আটক করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। সে দাউদকান্দি হাসনপুর পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল মজিদ শিকদারের ছেলে। বুধবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯ টায় নগরীর কুমিল্লা-লাকসাম সড়কের কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

নগরীর শতাধিক হসপিটাল ও ক্লিনিকের মধ্যে জনপ্রিয়তায় শীর্ষপর্যায়ে থাকা কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার (প্রা:) লি:। যা কুমিল্লা টাওয়ার হসপিটাল নামে পরিচিত। এমন একটি নামকরা হাসপিটালে কোন প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া কিভাবে একজন ভূয়া ডাক্তারকে নিয়োগ দেওয়া হল? এমন প্রশ্নে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র সমালোচনা।

জানা যায়, গনস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আবু ফরহাদ (মাহবুব) এমন পরিচয়ে কয়েক মাস ধরেই কুমিল্লা টাওয়ার হসপিটালের জরুরী বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন এই ব্যক্তি। কোন এক ডাক্তারের কাগজপত্র নকল করে নিজেই বনে গেছেন ডাক্তার। পরে হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেয়া হয়। এরপর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার (প্রা:) লি: এর ডিজিএম এডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী বলেন, সে গত তিন মাস ধরে এই হাসপাতালে কর্মরত রয়েছে। সে কোন প্রকার সাটিফিকেট দেখাতে না পারায় আমরা আইনের সহযোগিতা নিয়ে তাকে পুলিশে দেয়া হয়। কুমিল্লাবাসী আপনাদের এমন কর্মকান্ডে বেশ ক্ষিপ্ত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হবেই যেতেহু আমাদের প্রতিষ্ঠান বড়, কাজও বড়। তবে শুভাকাঙ্খী রয়েছে হাজার হাজার লাখ লাখ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ সালা উদ্দিন বলেন, ভুয়া ডাক্তার মাহবুবুর রহমান কয়েক মাস আগে কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ডিউটি ডাক্তার হিসেবে নিয়োগ নেয়। নিয়োগের সময় জমা দেয়া কাগজপত্রের মূল কপি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখতে চাইলে মাহবুবুর রহমান কালক্ষেপন করতে থাকে। পরে তাকে সন্দেহ হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে তার কোন চিকিৎসা সনদ নেই বলে স্বীকার করেন।

এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দিলে কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ থানার একদল পুলিশ নিয়ে গিয়ে ভুয়া ডাক্তার মাহবুবকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান কোতয়ালী থানার এ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডাঃ মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ভুয়া ডাক্তারকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়াটি একটু কঠিন ছিল। সে আরেকজন চিকিৎসকের কাগজ দেখিয়ে চাকুরী নিয়েছে। হাসপাতাল থেকে লিখিত কাগজ না দেওয়াতে এখনও যাছাই করেতে পরিনি। আমি বিষয়টি জানা মাত্রই পুলিশ পাঠিয়ে তাকে গ্রেফতার করিয়েছি।

প্রিন্স, ঢাকা