নিউইয়র্ক বইমেলা হবে ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য সম্মাননা’

নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের ২২-২৪ জুন অনুষ্ঠেয় নিউইয়র্ক বইমেলা কমিটির সভা গত ৮ এপ্রিল বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ড. নূরন নবীর। এবারের বইমেলার আহ্বায়কের নিউজার্সির ক্র্যানবেরি কিংলেট ড্রাইভ সাউথে অবস্থিত বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।।

সভার আলোচ্যসূচিতে ছিল বইমেলার সর্বশেষ পরিস্থিতির প্রতিবেদন উপস্থাপন, হোস্ট কমিটি গঠন ও তহবিল সংগ্রহ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

বিগত দুই বছর ধরে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ‘মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার’ নামে যে পুরস্কার দিয়ে আসছে তা আগামী ৫ বছর (২০১৮-২০২২) নিউ জার্সির জিএফবি গ্রুপ প্রদান করবে। এ সংক্রান্ত চুক্তিতে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পক্ষে আহ্বায়ক ড. নূরন নবী ও জেএফবি গ্রুপের পক্ষে গোলাম ফারুক ভুঁইয়া স্বাক্ষর করেন। পুরস্কারের মূল্যমান ২ লাখ টাকা।

বইমেলার আহ্বায়ক ড. নূরুন নবী তার বক্তব্যে সভায় আগত সকলকে স্বাগত জানিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বাংলাদেশের জ্ঞান ও সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে বলে সভাকে জানান। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরের জন্য মুক্তধারা সাহিত্য সম্মাননা পুরস্কারের চুক্তি সম্পাদন করার জন্য জেএফবি গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান।

সদস্য সচিব বিশ্বজিত সাহা বইমেলার সর্বশেষ অগ্রগতির প্রতিবেদন তুলে ধরেন।। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রকাশনা সংস্থা নিউইয়র্ক বইমেলায় অংশগ্রহণ করবে। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রকাশকদের বড় অংশ তাদের বই পাঠিয়ে দিয়েছেন। মেলার বেশ আগেই তাদের বই নিউইয়র্ক পৌঁছে যাবে।

সভায় প্রস্তাব গৃহীত হয় যে, আগেই বইয়ের তালিকা প্রকাশ হবে যাতে আগ্রহীরা আগে থেকেই বই কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আরো উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ থেকে এবারে অনেক বেশি সংখ্যক লেখক আসবেন বলে ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। নতুন বইয়ের প্রচারের দায়িত্ব দেয়া হয় আদনান সৈয়দকে।

আগত অতিথিদের তদারকি, তাদের থাকার ব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়েও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বইমেলার তিনদিনের অনুষ্ঠানসূচি নিয়েও প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়েছে। এবারের বইমেলায় নিউইয়র্কের পাশের রাজ্য নিউজার্সির বিশিষ্ট শিল্পীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকবে বলে উক্ত সভায় আগত নিউ জার্সির নেতৃস্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন।

সবশেষে বইমেলা পরিচালনা তহবিলের অর্থ সংগ্রহ বিষয়েও আলোচনা করা হয়। মেলার কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্য থেকে অর্থ সংগ্রহের কমিটির সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয় শুভ রায়কে। এবারের বইমেলার অংশ শিশুকিশোর মেলার অর্থঘাটতি পূরণ করে দেন কানেকটিকাট রাজ্য থেকে আসা মেলা কমিটির সদস্য নসরত শাহ। সভা শুরুর আগে মধ্যাহ্ন ভোজ ও সভাশেষে স্ন্যাক্স পরিবেশ করা হয় ড. নূরন নবী ও ড. জিনাত নবীর সৌজন্যে।

সভায় নিউজার্সি থেকে যোগ দেন ড. নূরুন নবী, ড. জিনাত নবী, নীলু ফারুক, নাজনীন হোসেইন, অজন্তা সিদ্দিকী, ডা. ফারুক আজম, গোলাম ফারুক ভুঁইয়া, রহিমা করিম, অনিন্দতা কাজী, ড. রেজাউল করিম, ড. কামরুল হাসান, সাব্বির আহমেদ, ড. দলিলুর রহমান ও সুমি রহমান। নিউইয়র্ক থেকে যোগ দেন ফেরদৌস সাজেদীন, হাসান ফেরদৌস, আহমাদ মাযহার, জীবন চৌধুরী, রানু ফেরদৌস, আদনান সৈয়দ, ওবায়দুল্লা মামুন, নাসরিন চৌধুরী, শিরীন বকুল, আবু রায়হান, দিঠি হাসনাৎ, তানভীর রাব্বানী, শুভ রায় ও বিশ্বজিত সাহা। কানেকটিকাট রাজ্য থেকে আসেন নসরত শাহ।