প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সরকারি চাকরিতে কোটা থাকবে না

নিউজ ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে কোনো ধরনের কোটা থাকবে না বলে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে গণভবনে এই দুই নেতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদেরকে এই কথা জানান তিনি।

এরপর দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন। 

সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‌সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা থাকবে না। আজ বুধবার বিকেলে সংসদে এ বিষয়ে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য জানান ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন।

ফেসবুক পোস্টে সাইফুর রহমান সোহাগ লেখেন, ‘কোটা পদ্ধতি সংস্কার নিয়ে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে আজ সকালে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোনও ধরনের কোটা পদ্ধতি থাকবে না।’

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনও তার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একই স্ট্যাটাস দেন। 

ছাত্রলীগ সভাপতির স্ট্যাটাস

মুহূর্তের মধ্যে এ দুই নেতার ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকে তাদের স্ট্যাটাস শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগে বুধবার সকালে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে কোটা সংস্কারের সুর্নিদিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান। 

তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন চালিয়ে যাব আমরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতো শতাংশ কোটা সংস্কার করবেন তা না বলা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

কোটা সংস্কারের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে ফের আন্দোলন শুরু করেন কোটা সংস্কারের সমর্থক শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল ১০টার আগে থেকেই বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। 

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সোমবার বৈঠকে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা। তবে মঙ্গলবার তারা ঘোষণা দেন, সরকারি আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পরদিনই ফের মাঠে নামেন কোটা সংস্কারের সমর্থক শিক্ষার্থীরা। বিভক্ত দুই পক্ষ ঐক্যবদ্ধ হয়েই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

কোটা সংস্কারের দাবিতে সমর্থন দিয়েছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করছেন।