একনেকে ১৬ প্রকল্প অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার: ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ৮ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। বাকি ব্যয় সরকারি খাত থেকে মেটানো হবে। বিভিন্ন দফায় সমন্বয় করে বাস্তবায়িত হচ্ছে দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পারমাণবিক চুল্লি বসানোর জন্য প্রকল্পের প্রথম কংক্রিট ঢালাই কাজ (ফার্স্ট কংক্রিট পোরিং বা এফসিপি) শুরু হয়েছে। এবার এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য ৬৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন স্থাপন করছে সরকার।

এছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজের ভারী মালামাল নিরাপদে ও দ্রুত প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে নেওয়া এই দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১১ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার। ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইভাকুয়েশনের জন্য সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পে ১০ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। অন্যদিকে ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সিগন্যালিংসহ রেললাইন নির্মাণ ও সংস্কার’ প্রকল্পে। প্রকল্প দু’টি একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

মুস্তফা কামাল আরো জানান, ‘শুধু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত মালবাহী ট্রেন সার্ভিস চালুর জন্য নতুন করে ২২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হবে। এর মধ্যে ব্রডগেজ থেকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর করা হবে ১৭ দশমিক ৫২ কিলোমিটার। এই বিষয়েও নতুন একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে’। নতুন ৬৬৯ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ব্যয়ের বিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ।

এখানকার দুই ইউনিট থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নতুন রেলপথ ঈশ্বরদী বাইপাস টেক অভ্ পয়েন্ট থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত নতুন রেলপথটি নির্মিত হবে। এছাড়াও সাড়ে ৪ কিলোমিটার লুপ লাইন, একটি বি-শ্রেণির রেলওয়ে স্টেশন, সাতটি কালভার্ট, ১৩টি লেভেল ক্রসিং ছাড়াও গেটসহ থাকছে সিগন্যালিং ব্যবস্থা। ঈশ্বরদীর ৩৭ নম্বর লেভেল ক্রসিং গেট থেকে পরিত্যক্ত পাইলট লাইন পর্যন্ত নতুন করে আরো ৯ কিলোমিটার নতুন লাইন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য রেলপথ সংস্কার করা হবে। প্রকল্প দু’টি জানুয়ারি ২০১৮ থেকে জুন ২০২০ মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে।

আজকের উপস্থাপিত ১৬টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ৫ হাজার ৭০৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল ১ হাজার ২৩৫ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৮ হাজার ৭৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা।

আজকের একনেক সভায় মন্ত্রিবর্গসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।