কোটা সংস্কারের দ্রুত উদ্যেগ নিতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে যুগে যুগে যারা তরান্বিত করে চলেছেন তারা সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষ। এই বিবেচনার উপর নির্ভর করে একটি গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন স্বাধীনতাকামী ছাত্র, কৃষক, তরুণ-তরুণীরা।

কালক্রমে সমাজ প্রগতির উন্নয়নের ধাপে ধাপে প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থার কারণে নিরীহ আদিবাসীরা ও তাদের সন্তানেরা সমাজের নানাবিধ উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছেন, এ বিবেচনা থেকে বিভিন্ন সময়ে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অগ্রযাত্রাকে তরান্বিত করার প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে যৌক্তিক কোটা পদ্ধতি প্রণয়ন জরুরী হয়ে পড়ে। সময়ের ব্যবধানে সমাজে ধন- বৈষম্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিল আকার ধারণ করলেও অত্যাধিক কোটা আরোপের ফলে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা চাকুরী ও দেশ সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন, সেটাও কাম্য হতে পারে না।

সাধারণ ছাত্ররা বিগত কিছু সময় থেকে সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে অযৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী ক্ষোভ বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সংগঠিত করতে শুরু করছে। গতকাল এই সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে শোভাযাত্রা ও সমাবেশের যে কর্মসূচি ছিলো তা সু-শৃংখলভাবে করা হলে সাধারণ মানুষের মেলবন্ধন রচিত হতো বলে আমরা মনে করি। ঢাকার শাহবাগে রাস্তা অবরোধকে ঘিরে আন্দোলনকারী তরুণ তরুণীদের সাথে আইন-শৃংখলা বাহিনীর টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ও লাঠিপেটা যেমন কোন অবস্থায়ই গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপচার্যের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরও কোন অবস্থায়ই মেনে নেয়া যায় না।

আমরা মনে করি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের যৌক্তিক দাবিতে গড়ে উঠা কর্মসূচির সাথে কোন উদ্দ্যেশ্য নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের অনুপ্রবেশের সুযোগ দিলে আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না ও আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে অনুরোধ জানাবো আন্দোলনরত ছাত্র-তরুণদের যৌক্তিক দাবিসমুহ আলোচনার মাধ্যমে দ্রæত বাস্তবায়ন করা উচিত। একই সাথে আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে।

আজ বিকাল ৫টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম ও সম্পাদকমণ্ডলীর যৌথ সভায় উপরোক্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। সংগঠনের সভাপতি জিয়াউদ্দিন তারেক আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন – সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণসংযোগ বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, জয়ন্তী রায়, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাপ্পাদিত্য বসু, কাজী সালমা সুলতানা, সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম মিলন, মামুনুর রশীদ, সাজেদুল আলম রিমন, ফাহমিনা কাশেম মিশু, ইয়াসরেমিনা বেগম সীমা, অণর্ব দেবনাথ, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল ওয়াহেদ, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, কামরুজ্জামান প্রমুখ।