সৌদি-ফ্রান্স সম্পর্কে চিড় ধরছে কি

নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে গত বছরের নভেম্বরে তড়িঘড়ি আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নিতে রিয়াদে ছুটে গিয়েছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তখন এ বৈঠক নিয়ে জনসমক্ষে দুজনের মুখেই হাসি শোভা পায়। কিন্তু এর আড়ালে ইরান বিষয়ে তাঁদের মধ্যে যে ঝাঁজালো কথা হয়, সেটার ফলাফল সম্পর্কে কি কেউ জানতেন? ওই কথাবার্তায় এটাই ইঙ্গিত মিলেছে যে এ দুই মিত্রদেশের সম্পর্কে একটা পরিবর্তন আসন্ন।

নভেম্বরের ওই আলোচনার সূত্র ধরে সৌদি-ফ্রান্স সম্পর্কে সাময়িক কোনো ছন্দপতন, নাকি দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা স্পষ্ট হতে পারে এবার ফ্রান্সে যুবরাজ মোহাম্মদের সফরে। দুই দিনের সফরে গতকাল রোববার প্যারিস পৌঁছেছেন তিনি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবারও দুজনের আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকছে ইরানের পরমাণু চুক্তি। পাশাপাশি স্থান পাবে কাতার, ইয়েমেন ও সিরিয়া সংকট।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে বড় কিছু চুক্তি সইয়ের পর ফ্রান্স সফরে গেলেন যুবরাজ মোহাম্মদ। সফরে তিনি রাজনৈতিক বৈঠক ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও একটি অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেবেন। ঘোষণা করার কথা রয়েছে দুই দেশের একটি পর্যটন প্রকল্প নিয়েও। তবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র সফরের মতো এ সফরে যুবরাজ মোহাম্মদের বড় রকমের কোনো চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই। বড় ধরনের চুক্তি সই না হওয়ার সম্ভাব্য ঘটনাকে এ দুই দেশের সম্পর্কের দুর্বলতারই প্রতিফলন-এমন ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন ফ্রান্সের কর্মকর্তারা।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ৩২ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার দিকে নজর দিয়েছেন। এটা এমন সময় তিনি করছেন, যখন এর বিপরীতে মাখোঁ ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে নজর দিয়েছেন।

কিছু পশ্চিমা ও আরব কূটনীতিক গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সৌদি আরব সফরকে উত্তেজনার বলেই আখ্যা দিয়েছেন। তিনজন কূটনীতিকের ভাষ্যমতে, প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সঙ্গে ওই সময় বৈঠকে যুবরাজ মোহাম্মদ সৌদির আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের আকাঙ্ক্ষা না পাল্টালে ও দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য স্বার্থ কাটছাঁট না করলে প্যারিসের সঙ্গে সম্পর্ক উল্টোদিকে নেওয়ার হুমকি দেন।

কর্মকর্তারা জানান, যুবরাজের হুমকির জবাবে মাখোঁ বিশ্বে তাঁর দেশের অবস্থান স্মরণ করিয়ে তাঁকে বলেন, ফ্রান্স একটি পরমাণু ক্ষমতাধর দেশ ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। ফ্রান্স যা করতে চায়, সেটি তার করার অধিকার আছে।

জ্বলন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় যুবরাজ মোহাম্মদের আপসহীন চেষ্টা কখনো কখনো প্যারিসের কাছে বেপরোয়া বলে ঠেকেছে। ফরাসি একজন কূটনীতিক বলেন, এরপরও ফ্রান্স-সৌদি সম্পর্ক ঠিকপথেই এগোতে পারত, কিন্তু যুবরাজ মোহাম্মদের আকর্ষণ প্রেসিডেন্ট মাখোঁর চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিই বেশি। সৌদি আরবে যুবরাজের সংস্কার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে মাখোঁ সমর্থন করলেও তিনি (মাখোঁ) মনে করেন, যুবরাজ প্রকৃতই এক আলগা কামান হয়ে উঠতে পারেন। ইয়েমেন ও কাতার সংকটে যুবরাজ যা করছেন এবং ইরান নিয়ে যেসব কথাবার্তা বলছেন, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের টান টান উত্তেজনায় প্রকারান্তরে ঘি-ই ঢালতে পারেন তিনি।