মুক্তিযোদ্ধা ভাতার আওতা বাড়ছে

নিউজ ডেস্ক: মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্ধন করে সুবিধাভোগীর আওতা বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত সদস্যদের এই প্রথম মুক্তিযোদ্ধা ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। আজ সোমবার মন্ত্রিসভায় এটি অনুমোদন হতে পারে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ দিন ‘স্ট্যান্ডার্ডস ওজন ও পরিমাপ আইন, ২০১৮’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হতে পারে।

প্রস্তাবিত আইনে মুক্তিযোদ্ধা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা সুবিধার আওতা বাড়ছে । তাদের অবর্তমানে পরিবারের সব সদস্য সুবিধা ভোগ করবেন। সব মিলিয়ে সোয়া দুই লাখের বেশি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা কল্যাণ সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা এবং ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে ট্রাস্টি বোর্ড, নির্বাহী কমিটি গঠনের পাশাপাশি তহবিল পরিচালনা, নিরীক্ষার বিধানও খসড়া আইনে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযোদ্ধাসহ সংশ্নিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলে বিল আকারে সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন হবে।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আজাহারুল হক বলেন, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের আওতায় এত দিন কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত হতো। ওই অধ্যাদেশের বিধান অনুসারে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধার অবর্তমানে তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য, অর্থাৎ বাবা-মা অথবা ভাই-বোন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেতেন না। এবার নতুন আইনে বিষয়টি সংযোজন করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে ট্রাস্টের কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে।

খসড়া আইনে ২৪টি ধারা রয়েছে। ছয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত খসড়ার প্রথম অধ্যায়ে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নতুন করে পরিবর্ধন করা হয়েছে। আইনের ২(২) ধারায় মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘একাত্তরের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে সকল ব্যক্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ব্যক্তি বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, বাংলাদেশি পেশাজীবী ও নাগরিক একই সময়ে বিদেশে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন করেছেন; যারা মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা/কর্মচারী/দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সশস্ত্র বাহিনী, গণবাহিনী ও অন্যান্য স্বীকৃত বাহিনী, পুলিশ, ইপিআর, নৌ-কমান্ডো, আনসার বাহিনীর সদস্য, যারা মুক্তিযুদ্ধে সংক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন; মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজিবনগর সরকারের সহিত সম্পৃক্ত তৎকালীন এমএনএ (মেম্বার অব ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লি) ও এমপিএ-গণ (মেম্বার অব পার্লামেন্টারি অ্যাসেমব্লি) যারা পরে গণপরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হন, (চ) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসরদের সহযোগী কর্তৃক নির্যাতিত (বীরাঙ্গনা) নারীগণ, (ছ) স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়গণ, (ঝ) মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী মেডিকেল টিমের ডাক্তার নার্স ও সহকারীরা। তবে শর্ত থাকে, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধকালীন বয়স নূ্যনতম সাড়ে ১২ বৎসর (সংশোধিত বিধান অনুসারে) হতে হবে।’

ট্রাস্টের কার্যক্রম: মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমেই ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী পদাধিকারবলে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। ভাইস চেয়ারম্যান হবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। বোর্ডের সদস্য থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত চারজন সাংসদ এবং পদাধিকার বলে অর্থ সচিব, শিল্প সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল অফিসার (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) ও কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়া ছয় সদস্যের নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সভাপতি থাকবেন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। প্রস্তাবিত আইন অনুসারে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতি অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সরকারকে বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

ওজনে কম ও মানহীন পণ্য বিক্রি-রফতানি করলে জেল-জরিমানা বাড়ছে: অনুমোদনহীন বাটখারা উৎপাদন ও ব্যবহারসহ এবং পণ্যের ওজনে কম কিংবা মানহীন পণ্য বিক্রি বা রফতানি করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদ এবং এক লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। এমন বিধান রেখে ‘স্ট্যান্ডার্ডস ওজন ও পরিমাপ আইন, ২০১৮’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আইনটি অনুমোদন হতে পারে।

সূত্র জানায়, সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ১৯৮২ সালের ‘দ্য স্ট্যান্ডার্ডস অব ওয়েট অ্যান্ড মেজার্স অর্ডিন্যান্স’ সংশোধন ও পরিমার্জন করে আন্তর্জাতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে বাংলা ভাষায় আইনটির খসড়া তৈরি করা হয়। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, বিএসটিআই কর্তৃক স্ট্যান্ডার্ড ওজন বা পরিমাপণ বা সংখ্যামানের বদলে রফতানির জন্য তৈরি বা উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে ওজনের সঙ্গে খোদাইকৃত ওজন, পরিমাপন বা সংখ্যার গরমিল থাকলেও শাস্তি দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিকে অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদ বা অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদ বা উভয় দে দি ত করা যাবে। দ্বিতীয় বা পরবর্তী প্রতিবারের অপরাধের জন্য অর্থদ সহ অনূর্ধ্ব তিন বছরের কারাদ দেওয়া যাবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি অনুমতি নিয়ে রফতানির জন্য তৈরি বা উৎপাদিত পণ্যের ওজনে কম দিলেও শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধী ব্যক্তি অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদ অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদ বা উভয় দে দি ত হবেন। আগে জরিমানা ছিল পাঁচ হাজার টাকা।

যদি কোনো ব্যক্তি সত্যতা প্রতিপাদনের জন্য পরিলক্ষিত ত্রুটি সংশোধন ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড, সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড বা প্রচলিত মানদ পরিবর্তন বা পরিমিত করে, তাহলে সেই ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা অর্থদে দি ত হবেন। এর আগে জরিমানা ছিল পাঁচ হাজার টাকা, তবে এই অপরাধে দুই বছরের কারাদ বহাল থাকছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মান সংস্থাসহ (আইএসও) অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার নিয়মকানুন এ আইনে অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

এ ছাড়া ‘সরকারি ই-মেইল নীতিমালা, ২০১৮’-এর খসড়া, ‘আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র্র বাংলাদেশ আইন, ২০১৮’ ও কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হতে পারে বলে জানা গেছে।