বিশ্বকাপের দুই মাস আগে নতুন কোচ পেল জাপান

নিউজ ডেস্ক: অভিজ্ঞ আকিরা নিশিনোকে জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। জাতীয় দলের কোচ ভাহিড হালিহোজিককে বিশ্বকাপের মাত্র দুই মাস আগে বরখাস্ত করার পরে জরুরি ভিত্তিতে নিশিনোকে নিয়োগ দিল জাপান। ব্লু সামুরাইদের বেশ কয়েকটি হতাশাজনক পারফরমেন্সের কারণেই কোচকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্র নিশ্চিত করেছে।

হালিহোজিকের অপেশাদার কোচিং স্টাইল নিয়ে প্রথম থেকেই সবাই বেশ নাখোশ ছিল। কাইয়োডো বার্তা সংস্থার সূত্র মতে, জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কোচে তাশিমা রবিবারই জানিয়েছিলেন দ্রুতই হালিজোকিচের উত্তরসূরীর নাম ঘোষণা করা হবে।

৬৩ বছর বয়সী নিশিনোর ঘরোয়া ফুটবলে কোচিংয়ের দারুণ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৯৬ সালে আটলান্টা অলিম্পিকে রোনাল্ডো, রবার্তো কার্লোসদের নিয়ে সাজানো ব্রাজিল দলকে ১-০ গোলে হারানোর পিছনে তার অবদানের কথা অনেকেরই জানা। রাশিয়া বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার বিপক্ষে জাপানের ম্যাচের আগে নিশিনোর হাতে রয়েছে মাত্র ৭০দিন। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কলম্বিয়া ছাড়াও পোল্যান্ড ও সেনেগালের কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে এশিয়ান পরাশক্তিদের।

এ সম্পর্কে তাশিমা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমাদের হাতে বিশ্বকাপের আগে আর মাত্র দুই মাস সময় বাকি রয়েছে, বিষয়টা বেশ কঠিন। জরুরি ভিত্তিতে আমরা নিশিনোকেই এই দায়িত্ব নেবার অনুরোধ জানিয়েছি।’

জাতীয় দলের সাবেক এই মিডফিল্ডার জাপানের হয়ে ১২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ২০০৮ সালে গাম্বা ওসাকাকে প্রথমবারের মত এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা উপহার দেবার পর থেকে নিশিনোকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে। এই শিরোপা লাভের মাধ্যমে ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে গাম্বা ওসাকা। জে-লীগের পেশাদার এই ক্লাবটির ইতিহাসে এই ম্যাচটি ছিল অন্যতম স্মরণীয়। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো, রায়ান গিগস, ওয়েইন রুনিদের নিয়ে গঠিত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে জাপানের ক্লাবটি ৫-৩ গোলে পরাজিত হয়।

তাশিমা বলেছেন, নতুন কোচের অধীনে দলের মূল কৌশল একই থাকবে। তবে এই দলের আরও দ্রুত আক্রমন করার স্টাইল রপ্ত করা নিয়ে কাজ করতে হবে।

এই নিয়ে টানা ষষ্ঠবারের মত বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে ব্লু সামুরাইরা। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে নিজেদের মাঠে যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপের শেষ’১৬ পর্যন্ত খেলেছিল জাপান। যদিও বাছাইপর্বের লড়াইটা মোটেই সহজ ছিল না। ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল। এরপর সৌদী আরবের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয় জাপান। তবে শেষ পর্যন্ত আর হতাশ হতে হয়নি।