ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন

নিউজ ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ গতকাল রোববার মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। পরে বাসভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনে এই তাণ্ডব চলে।

জানা গেছে, আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের শোয়ার ঘর থেকে বাথরুম, রান্নাঘরসহ সবখানে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাসভবনের আশপাশে একাধিক মোটরসাইকেলেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিপুলসংখ্যক পুলিশ নীলক্ষেতের দিক দিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতর প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সে সময় কলাভবন ও মল চত্বর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ঢাবি উপাচার্যের পরিবারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রাত ১টার দিকে এক থেকে দুই হাজার বিক্ষোভকারী বাসভবনে প্রবেশ করে। তারা মূল গেট ভেঙে ফেলে এবং দেয়ালের তারকাঁটা ভেঙে বাসায় ঢুকে পড়ে। তাদের হাতে রড, হকিস্টিক, লাঠি ও বাঁশ ছিল। আমরা ভয়ে বাসভবনের পেছনে পালিয়ে যাই। তবে হামলায় উপাচার্যের পরিবারের কেউ আহত হননি বলে জানান তিনি।

ভিসির বাসভবনের দুটি গাড়িতে ভাঙচুর ও দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এমনকি ভাঙচুর করা দুই গাড়ির পার্সও চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বুদ্ধিজীবী পরিবারের সভাপতি আবু মুসা মো. মাসুদুজ্জামান। তিনি জানান, পুরো বাসভবনের ছোটবড় ১০টি কক্ষ রয়েছে। প্রায় সবগুলো কক্ষতেই ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে রাত দেড়টায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর থেকে সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় জানা গেছে তাঁরা হলেন, আকরাম হোসেন (২৬), আবুবকর সিদ্দিক (২২), মো. রফিক (২৪), রাফি আলামিন (২২), রাজ (২৩), সোহেল (২৫), ওমর ফারুক (২৫), খোরশেদ (২৬), মাহিম (২২), আসলাম (২৩) ও আওলাদ হোসেন (৫০), শাহ পরাণ (২২), অমিত (২৩) রবিন (২২) ও রাসেল (২২)।

হাসপাতালে জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, আহত সবাই আশঙ্কামুক্ত।
এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গতকাল রোববার সন্ধ্যা থেকে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।