জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা উচিত

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনেও সেনা মোতায়েন হতে পারে। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা উচিত। গতকাল রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে প্রবাসী ভোটাধিকার প্রবর্তন : সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে সিইসি বলেন, অতীতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনেও সেনা মোতায়েন হতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে একবারও বলিনি সেনা মোতায়েন হবে না। তবে এটা আমার একার সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। ইসির আরও পাঁচজন সদস্য আছেন, তারা মিলেই এটা সিদ্ধান্ত নেবেন।

জাতীয় নির্বাচনে সেনা চাইলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পক্ষে নন সিইসি। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা উচিত বলে আমি একদম মনে করি না।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। সংলাপে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপিসহ ১৯টি দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে।

সংলাপে সিইসি বলেছিলেন, সেনাবাহিনী কীভাবে মোতায়েন করা হবে, এটা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে সেনা মোতায়েন করা যাবে। কীভাবে মোতায়েন করা যাবে সেটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে; এখনই বলা যাবে না।

গতকালের সভায় সিইসি ছাড়াও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য লে কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সেনা মোতায়েন বিষয়ে কথা বলেন।

ফারুক খান বলেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি। আমাদের সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করেছে। আমরা মনে করি, কমিশন এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ছিল। এ ব্যাপারে কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের সেনাবাহিনী সারা দুনিয়ায় শান্তিরক্ষায় কাজ করছে, বিভিন্ন দেশের সুষ্ঠু নির্বাচনে ভূমিকা রাখছে। সেনাবাহিনী থাকলে একটি পক্ষের অসুবিধা হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের তো তাদের পক্ষ নেওয়া উচিত হবে না।

আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেএম নুরুল হুদা বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আগামী নির্বাচনের আগে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। প্রচার চালাতে দূতাবাসগুলোকেও চিঠি দেওয়া হবে। সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কমিশন সচেষ্ট রয়েছে।