সিল মারা নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না: এরশাদ

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আগামী নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ। কোনো সিল মারা নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। গতকাল শনিবার বিকালে নগরীর লালদীঘির ময়দানে জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
এরশাদ বলেন, আমরা একক সরকার চাই না। বর্তমানে সব একজনের কথায় চলছে। দেশে কোনো নিরাপত্তা নেই। এখন তো নির্বাচন হয় না, শুধুই সিল মারে। নির্বাচন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের মানুষ ক্ষমতার পরিবর্তন চায়।

তিনি আরও বলেন, এ দেশে কখন কে গুম হবে, আর খুন হবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। আর জানেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের বাবারা ১৪ বছরের মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য এখন পাগল হয়ে যায়। কারণ কখন কে ধর্ষণের শিকার হয়ে নদীর পাড়ে লাশ হয় কে জানে?

উন্নয়নের মহাসড়ক দুর্নীতির মহাসড়কে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, উন্নয়নের মহাসড়কে খাল-বিল কেন? এই মহাসড়কে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি। ঢাকা থেকে রংপুর যেতে ১৫ ঘণ্টা লাগে। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসতে লাগে ১৭ ঘণ্টা। রাস্তায় এত গর্ত কেন? এত টাকা কোথায় যায়? দেশকে বাঁচাতে হবে।

বাংলাদেশের মতো ব্যাংক ডাকাতি আর কোথাও হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে বলা হতো ব্যাংকের টাকা নেওয়ার কেউ নাই। এখন বলা হচ্ছে ব্যাংকে টাকা নেই। কোথায় গেল এই টাকা? কৃষককে ব্যাংকের টাকা দিতে না পারলে জেলে যেতে হয়। আর ব্যাংক থেকে যারা টাকা লুট করছে, তাদের জেলে যেতে হয় না কেন? তাদের তো বিচার হয় না। কৃষকের বিচার হয় কেন?

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এরশাদ বলেন, নির্বাচনের আগে উনি কথা দিয়েছিলেন ১০ টাকায় চাল খাওয়াবেন। এখন চালের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। একজন রিকশাওয়ালার তিন থেকে চার সন্তান। তারা ৭০ টাকা কেজিতে চাল কিনে কীভাবে ভাত খাবেন? ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু এখন দেশে ৪ কোটি ৮২ লাখ বেকার। ওরা এখন দেশের বোঝা, পরিবারের বোঝা, সমাজের বোঝা। বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে তারা মাদকের আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু ওনারা ভালো আছেন। মানুষ কেমন আছেন, তাদের তা জানার সময় নেই।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, বন ও পরিবেশমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দীন বাবলু প্রমুখ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এমএ মান্নান। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এমএ মতিন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, মেজর (অব.) খালেদ আক্তার প্রমুখ।