সন্ত্রাস জঙ্গী বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদকবিরোধী এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ এপ্রিল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) এবং মুখ্য আলোচক ছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান পিপিএম। আরও অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, রাজশাহী বিভাগের উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক এম খুরশিদ হোসেন বিপিএম (বার), প্রক্টর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উপাচার্যসহ অন্যান্য বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ক্রমবর্ধমান কর্মকান্ড এবং সা¤প্রতিককালে কয়েকটি উপর্যুপরি হামলার প্রেক্ষাপটে এমন ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ সাম্প্রতিক কোনো বিষয়। কিন্তু তা সঠিক নয়। এক্ষেত্রে আমরা এক দশক বা তারও আগের সন্ত্রাসী ঘটনার কথা স্মরণ করতে পারি। জঙ্গিবাদের প্রতি বর্তমান সরকারের শুন্যমাত্রার সহনশীল মনোভাবের কারণে আজ তা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, তছনছ হয়ে গেছে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদের কাঠামো

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জঙ্গিবাদ আর কোনোদিন বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিতে পারবে না বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক কর্মকান্ড লক্ষ্য করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে তাঁরা আহŸান জানান।

বক্তারা মাদক প্রতিরোধ প্রসঙ্গে বলেন, মাদকাসক্তি বা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার দীর্ঘদিন থেকে একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। তবে বাংলাদেশে এর প্রসার ঘটেছে গত প্রায় তিন দশকে। অবৈধ মাদকের ব্যবহার ও ব্যবসা বাংলাদেশে প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োগের সাথে জড়িত সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টা সত্তে¡ও, পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দেয়, বাংলাদেশে মাদক-সমস্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ সমাজের বিত্তবান থেকে শুরু করে নি¤œ আয়ের মানুষ পর্যন্ত মাদকদ্রব্যের নিরন্তর ঝুঁকিতে রয়েছে। বেআইনি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী এবং এর পৃষ্ঠপোষকরা শুধু মাদক সংক্রান্ত অপরাধই করে না, তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িত। কাজেই মাদক একটি সামাজিক সমস্যা।

কোন সামাজিক সমস্যা কোন একক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য সমাজের সকলকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের প্রতি জনগণের সচেতনা বৃদ্ধির জন্য প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। পেটের দায়ে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের পূনর্বাসন করা তথা অন্য কোন সম্মানজনক বৈধ পেশায় আত্মনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠাও প্রয়োজন।

পুলিশের মহাপরিদর্শক তাঁর বক্তৃতার এক পর্যায়ে রাজশাহীতে স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং ধারণাটির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে ইতোমধ্যে গঠিত এই ব্যবস্থার সাফল্য অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। কমিউনিটি পুলিশিংকে আরো সম্প্রসারিত করার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে সমাজ থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক নির্মূল সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই পুলিশিংয়ের সাফল্যের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠাটি সঞ্চালনা করেন এসএম সাদাকাত মাহমুদ ও মেহজাবিন কথা।