রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কাজ করবে কানাডা

নিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো হত্যা-নির্যাতনকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেছে কানাডা। একই সঙ্গে এর বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও শক্তভাবে তুলে ধরবে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

বুধবার এক বিবৃতিতে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়া ফ্রিল্যান্ড এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়ন মন্ত্রী মেরি-ক্লাউডি বিবিউ এসব কথা জানান।

সম্প্রতি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন শেষে কানাডার মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি বব রে তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেন। তার ওপর ভিত্তি করেই কানাডার দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আমরা সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করব। এটা মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ কারণেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আর আমরা মানবাধিকার রক্ষায় অবশ্যই কথা বলে যাব।’

এর আগে বব রে তার রিপোর্টে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর চালানো হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, লুটপাটের বিশদ চিত্র বর্ণনা করেন। এ ছাড়া আগামী মাসে কানাডার নেতৃত্বে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথের বৈঠকে বিষয়টি তোলা হবে বলে তিনি জানান।

সেই সঙ্গে আগামী মে মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে কানাডা আহ্বান জানাবে বলে জানান তিনি।

এ নিয়ে বুধবার অটোয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে বব রে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কানাডার শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা রাখা উচিত। এর জন্য আমাদের উচিত হবে বহু বছর মেয়াদি একটি তহবিল গড়ে তোলা। আর সেটা শুরু হতে হবে এ বছর থেকেই। এর আওতায় থাকবে রোহিঙ্গাদের মানবিক, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা। যদিও এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে পরবর্তী চার বছরে বার্ষিক খরচ হতে পারে ১৫ কোটি ডলার।’

রে আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আমরা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সামনে যে চ্যালেঞ্জ আছে, তা খাটো করে দেখা উচিত হবে না। এ ক্ষেত্রে কানাডা ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ সূত্র: ইউএনবি ও এবিসি নিউজ