রাস্তায় বেড়া দেয়ায় অবরুদ্ধ ১২ পরিবার

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দায় চলাচলের রাস্তায় বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী। উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের পারশিমলা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার রাস্তায় বেড়া দেয়ায় গত ১১ দিন থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ১২ টি পরিবার। ভ্যান চলাচলের রাস্তা না থাকায় তারা নিত্যপ্রয়োজনী পণ্য বিক্রি করতে হাট-বাজারে যেতে পারছেন না। সমস্যা সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারশিমলা গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় হিন্দু-মুসলিমসহ ১২ টি পরিবারের শতাধিক মানুষ বসবাস করেন। গত ২৪ মার্চ সকালে স্থানীয় প্রভাবশালী মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুস সামাদ, আফছার ও আলমগীর এলাকাবাসীদের কাউকে কিছু না জানিয়ে তাদের আম বাগানের জমির সীমানা ঘেঁষে বাঁশের খুটি পুতে বেড়া দেয়। ওই পাড়ার বাসীন্দা তাদের বাপ-দাদার আমল থেকে আম বাগানের শেষ সীমানা রাস্তা হিসেবে চলাচল করে আসছে। সীমানার কিছু অংশ স্থানীয় শাহাদত শেখের ছেলে সাইদুল ইসলামের জায়গাও রয়েছে। তার অংশের উপরও বেড়া দিয়েছেন ওই প্রভাবশালীরা।

ওই পাড়ার বাসীন্দা রশের আলী, আফজাল হোসেন, কাশেম সহ কয়েকজন বলেন, জন্মের পর থেকে ওই রাস্তাটি আমরা দেখে আসছি এবং চলাচল করতাম। কিন্তু হঠাৎ করে তারা আমাদের কোন কিছু না জানিয়ে বেড়া দিয়েছে। আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন পর জমি থেকে ধান উঠবে। বাড়িতে নিয়ে আসাও সম্ভব হবেনা। হাটে বাজারে ভ্যানে করে কিছু নিয়ে যেতে পারছিন। বিষয়গুলো নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

জমির মালিক আব্দুস সালাম বলেন, আমার জমিতে যা ইচ্ছে তাই করব। ওই পাড়ার মানুষরা আমাদের আম গাছের সাথে গরু বেঁধে রাখে। তারা সব সময় আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। একারণে আমরা বেড়া দিয়েছি। এ গ্রামের অধিকাংশ জমি আমাদের। দরকার হলে বাড়ি থেকে তাদের বের হতে দিবোনা।

স্থানীয় বিষ্ণপুর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আবু তালেব বলেন, এলাকার মধ্যে ওই পরিবারটি খুবই প্রভাবশালী। ওদের কাছে এলাকাবাসীরা একপ্রকার জিম্মি। তারা যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। অকারণে এলাকার মানুষদের মারপিট করে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। গ্রামের মানুষরা এসব বিষয় নিয়ে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। ভয়ে কিছু বলতে পারেনা মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজত খাটাবে বলে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, গত ২ এপ্রিল (সোমবার) বিষয়টি আমি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শুনেছি। শিগগিরই রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

প্রিন্স, ঢাকা