গমের মাটি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরে গম উৎপাদনে সুষম সারের ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টেকসই মাটি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সদর উপজেলার দস্তানাবাদ কৃষি বøকের সুলতানপুরে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সার উন্নয়ন কেন্দ্র যৌথভাবে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহনকারী গম উৎপাদক ২৫ জন কৃষক এবং স্থানীয় ৫ জন খুচরা সার ব্যবসায়ীকে মাটির বিভিন্ন উপাদান এবং ফসল উৎপাদনে সুষম ও গুণগতমানের সার ব্যবহার বিষয়ে অবহিত করা হয়। উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার, সময়মত বীজ বপন ও সেচ নিশ্চিতকরণ, বালাই ব্যবস্থাপনার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জৈব সারের গুণগতমান নিশ্চিত করে জমিতে প্রয়োগ করতে পারলে শস্য উৎপাদনের পরিমাণ অনেকটাই বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে প্রশিক্ষকবৃন্দ উল্লেখ করেন।

তাঁরা বলেন, সুষম সারের সঠিক মাত্রার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে গমের বিঘাপ্রতি উৎপাদন সর্বোচ্চ বারো মণ থেকে আঠারো মণে উত্তীর্ণ করা সম্ভব-যেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে বিঘাপ্রতি গড়ে দশ মণ গম পাওয়া যায়।

প্রশিক্ষণ প্রদান করেন আন্তর্জাতিক সার উন্নয়ন কেন্দ্রের মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ড. মইনুল আহসান এবং মাঠ সমন্বয়কারী মোঃ নাজমুল হক ও সৈয়দ আরশাদ হোসেন এবং নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল ওহাব প্রশিক্ষক সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সার উন্নয়ন কেন্দ্র নাটোর জেলায় গম, মসুর ডাল, ভুট্টা, আলু, আমন ধান এবং বোরো ধানের চাষাবাদে মাটির উপাদানের উপর ভিত্তি করে সুষম সারের মাত্রা নির্ধারণ করতে ১৬টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করেছে। এসব প্রদর্শনী প্লটের শস্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় বীজ ও সার সরবরাহ এবং সেচের ব্যয় নির্বাহ করছে। প্রশিক্ষণ শেষে স্থানীয় কৃষক মঞ্জুরুল ইসলামের জমিতে স্থাপিত প্রদর্শনী প্লটের গম এবং প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদকৃত জমির গম কাটা হয় এবং কৃষকদের সরেজমিনে ফসল উৎপাদন পদ্ধতি ও উৎপাদনের মধ্যে পার্থক্য অবহিত করা হয়।

প্রিন্স, ঢাকা